শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাছুদুল আলম খান (চাঁন্দু) ৩০ জুন ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়ের রৌহাদাহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা–মরহুম আব্দুল খালেক খান এবং মাতা মরহুমা জোবেদা খাতুন। তিন ভাই এবং এক বোন-এর মধ্য তাহার অবস্থান দ্বিতীয়।
সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে তিনি তাহার শিক্ষাজীবন শুরু করেন। পারিবারিক অস্বচ্ছলতা এবং খেলাধুলার প্রতি অধিক মনোযোগ থাকায় তিনি খুব বেশি লেখাপড়া করতে পারেননি। তিন খুব ভাল ফুটবল খেলতেন। বগুড়া জেলার প্রশিদ্ধ এবং প্রাচীন “টাউন ক্লাবের” হয়ে নিয়মিত খেলতেন।
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণঃ স্বাধীনতা ঘোষনার পর তিনি দেশ এবং মাতৃকার স্বাধীনতা অর্জনের জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। সেই লক্ষ্যে উন্নত প্রশিক্ষনের জন্য তিনি ভারতে গমণ করেন। তিনি ভারতের শীলিগুরি জেলার পানিঘাটা ক্যাম্প থেকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে অস্ত্র চালনার উচ্চতর প্রশিক্ষন গ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষন শেষে চাঁন্দুর নেতৃত্বে ২৫ জন তরুন মুক্তিযোদ্ধা ইয়ুথ ক্যাম্পে আগমন করেন। এই ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন আনোয়ার এই প্রশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশে প্রেরন করেন।
চাঁন্দু তার সহযোদ্ধাদের নিয়ে যমুনা নদী পার হয়ে সারিয়াকান্দি থানার চন্দনবাইসা নামক গ্রামে আশ্রয় নেন। সেখানে চাঁন্দু তার মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে পরদিন চন্দনবাইসা ক্যাম্প আক্রমণ করে। উক্ত সম্মুখ যুদ্ধে ২ পাক সেনা ও রাজাকার নিহত হয়। পরবর্তী সময়ে চাঁন্দু তার সহযোদ্ধাদের নিয়ে নিয়ে ধুনট, নিমগাছী, খোট্টাপাড়া ও জালশুকা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এলাকাগুলো রাজাকার মুক্ত করেন। সফল অপারেশন এর পর চাঁন্দু সারিয়াকান্দি থানার জোড়গাছা নামক স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করেন।
১৫ সেপ্টেম্বর শমসের রাজাকারের ক্যাম্প এর চতুর্দিকে অ্যাম্বুশ করে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার চান্দু’র বাহিনী। তারপর উভয় পক্ষের গোলাগুলি শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা মেলিটারির সাথে তার সহযোগীদের সঙ্গে গোলা-গুলি চলতে থাকে। হঠাৎ একটি গুলি এসে কমান্ডার চান্দুর বুকে লাগে। এতে তিনি শাহাদাৎ বরন করেন। তাহাকে রৌহাদাহ গ্রামে সমাহিত করা হয়।
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাছুদুল আলম খান চান্দু বগুড়ার জেলার একজন খ্যাতিমান ফুটবল খেলওয়ার হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং খ্যাতিমান খেলওয়ার-কে স্মরণীয় করে রাখা কল্পে ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থা বগুড়া জেলার কেন্দ্রীয় স্টেডিয়াম’কে “শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়াম”- নামে নামকরন করেন।