এখনো কারাগারে বন্দি সাহসী কলমযোদ্ধা সাংবাদিক শামসুল হক জনি। সত্য প্রকাশ ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন তাঁর একমাত্র ‘অপরাধ’।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানী সংবাদ সংগ্রহ করে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়— একাধিকবার তাঁর ওপর শারীরিক হামলাও চালানো হয়েছে।
সহকর্মী সাংবাদিক ও স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দাবি, শামসুল হক জনি কোনো অপরাধ করেননি; তিনি কেবল তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা বলেন, “একজন সাংবাদিকের কাজই হলো সত্যকে সামনে আনা। সেই সত্য যদি কারও স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তবে তার জন্য সাংবাদিককে শাস্তি দেওয়া অনৈতিক ও অন্যায়।”
জনির পরিবারও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রতিটি মামলা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। তাঁর মা বলেন, “আমার ছেলে কারো ক্ষতি করেনি। সে শুধু মানুষের পাশে ছিল। এখন সেই সত্যবাদী ছেলেটা কারাগারে।”
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন ও সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো এক বিবৃতিতে বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হামলা— এসব এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, “আর কত সাংবাদিককে এমনভাবে হয়রানি হতে হবে?”
প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, শামসুল হক জনির মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তি_দাও_জনি হ্যাশট্যাগে প্রচারণা চলছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সহকর্মী সাংবাদিকরাও এক কণ্ঠে বলছেন— “একজন সাংবাদিকের কলমকে বন্দি করা যায়, কিন্তুু তার বলা সত্যকে নয়।”
সাংবাদিক মহল আশা করছে, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করবে এবং শামসুল হক জনিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেবে।