ইতিহাস বলে— ১৯৪৭ সালে মাত্র দুই বছর বয়সেই ভারত ছাড়েন খালেদা জিয়া। কিন্তুু নয়াবস্তি অবস্থা এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেরই দাবি দেশভাগের পরেও বেশ কিছুদিন ভারতে ছিলেন তারা। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মভিটে আজও সংরক্ষিত রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলার নয়াবস্তি এলাকায়। মূলত এই এলাকার ওই পুরোনো বাড়ি আজও বহন করছে ইতিহাস। কারণ এখানেই জন্মেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। দেশভাগের পর পরিবারটি বাংলাদেশে চলে গেলেও জন্মভিটে রয়ে গেছে আগের মতোই। এই বাড়িটি এখনও যত্নে-আত্তিতে সংরক্ষণ করে রেখেছে বর্তমান মালিক পরিবার— যা স্থানীয়দের কাছে এক ঐতিহাসিক ঠিকানা। জানা যায়, দেশভাগের পর তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বাসিন্দা অমরেন্দ্র চক্রবর্তী এই বাড়িটি ক্রয় করে। বর্তমানে তার ছেলের তত্ত্বাবধানেই জলপাইগুড়ি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এই বাড়িটি দেখভাল করা হয়। খালেদা জিয়ার জন্মভিটে হিসাবে আজও বাড়িটি সংরক্ষিত অবস্থায় রেখেছেন চক্রবর্তী পরিবার। আর এই বাড়ি দেখভালের জন্য খালেদা জিয়ার আত্মীয়-স্বজন এখনও নিয়মিত যাতায়াত করেন ভারতে। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জলপাইগুড়ি জেলা শহরের নয়াবস্তির এক আভিজাত্যে ভরা শান্তির নীড় মুজমদার পরিবারে প্রচণ্ড খুশির বার্তা বয়ে ইস্কান্দার মজুমদারের ঔরস্যে ও বেগম তৈয়বা মুজমদারের গর্ভে জন্ম নেন খালেদা খানম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার আলী মজুমদার পেশায় চা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। খালেদা জিয়ার মা তৈয়বা মজুমদারের জন্ম উত্তর দিনাজপুর জেলার চাঁদবাড়ি গ্রামে, এই এলাকাটিও বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর খালেদা জিয়ার পরিবার দিনাজপুরে চলে যায়। আর তা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের অংশ হয়। ফলে জন্মসূত্রে ভারতের বর্তমান ভূখণ্ডে জন্ম হওয়ায় খালাদা জিয়া ভারত ছাড়লেও তার জন্মভিটে এখনও রয়েছে আগের মতোই।