বগুড়ায় ইতিহাস ও ঐতিহ্য শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনভেনশন সম্পন্ন হয়েছে। ৫৪ বছরের রেকর্ড ভেঙে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, সভ্যতা ও গবেষণাভিত্তিক ইতিহাস চর্চায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। ২ ও ৩ জানুয়ারি ইতিহাস চর্চা পরিষদ আয়োজিত কনভেনশনে দেশ-বিদেশের চার শতাধিক গবেষক অংশগ্রহণ করেন। বগুড়ার প্রাচীন ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সমাজ-রাজনীতি ও লোকজ ঐতিহ্য নিয়ে মূল্যবান গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। আন্তর্জাতিক কনভেনশনে ইতিহাস চর্চায় নতুন তথ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করে।
রোববার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ করেন ইতিহাস চর্চা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার। তিনি জানান, বগুড়ার ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম আন্তর্জাতিক কনভেনশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পল্লী উন্নয়ন একাডেমীতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কনভেনশন আহ্বায়ক ও নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) গবেষক প্রফেসর ড. হাসানাত আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।
সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে বগুড়ার শিবগঞ্জের ঐতিহাসিক প্রত্নস্থল ভাসু বিহার ও মহাস্থানগড় পরিদর্শন করেন সকল গবেষক। কনভেনশন উদ্বোধনীতে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্মের তথ্য শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. সিএম ইদরিস।
উপস্থিত ছিলেন বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র এড. মাহবুবুর রহমান, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উপচার্য প্রফেসর ড. কুদরত-ই-জাহান, আরডিএ অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এ্যামিরেটাস প্রফেসর ড. আজহারুল ইসলাম, টিএমএসএস নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. হোসনে আরা বেগম, দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক লায়ন মোজাম্মেল হক লালু।
কনভেনশন সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির কো-কনভেনার টিএমএসএস উপ-নির্বাহী পরিচালক ডা. মতিউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন পুন্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্র, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর ড. খালেকুজ্জামান ইলিয়াস, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) মো. নাসিমুল গনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী, আরডিএ পল্লী প্রশাসন ও জেন্ডার বিভাগের পরিচালক ড. শেখ মেহ্দী মোহাম্মদ, আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর ড. সাহিদুর রহমান, ইতিহাস চর্চা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম রাজিউল্লাহ। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. সোহরাব হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোকাম্মেল এইচ ভূইয়া, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. মাহমুদ নাসির জাহাঙ্গীরি, গাবতলী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নুরে আলম সিদ্দিকী, বগুড়া প্রফেশনাল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ মবিন প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, এই কনভেনশনের মাধ্যমে বগুড়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপিত হবে। ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।