ব্রিটিশ বিরোধী, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, দেশবীর মোঃ হোছেন আলী খান বাদেশী ১৯২০ সালের ২০শে জানুশারী ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বরাইদ গ্রামে বিখ্যাত খান পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা প্রয়াত আব্দুল খান ছিলেন- ব্রিটিশ বিরোধী নেতা। তিনি মেদিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
তরুণ বয়সেই পরিচিত হন- লেখক আবুল মুনসুর আহম্মেদের সাথে। ভাষা আন্দোলনের স্থপতি সংগঠন তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ সালের প্রহেলা সেপ্টেম্বর। বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি হন লেখক আবুল মনসুর আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক হন- মোঃ হোছেন আলী খান বাদেশী। ময়মনসিংহে ১৯৪৭ সালেই লেখক আবুল মনসুর আহমেদ ও মোঃ হোছেন আলী খান বাদেশীর নেতৃত্বে শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। পরবর্তীতে ঢাকায় ভাষা সংগ্রাম কমিটি ও পরে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি গঠিত হলে দুই কমিটিতেই তিনি সহ-সভাপতি ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে অসামান্য ভূমিকার জন্য তমদ্দুন মজলিস থেকে "মাতৃভাষা পদক- ২০২৩" পেয়েছেন তিনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ১১নং এফ জে সেক্টরের মুক্তিবাহিনীর উপদেষ্টা ও সংগঠক ছিলেন। এছাড়াও তিনি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, গণ অভ্যুত্থান সহ বহু অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেন।
তিনি সোহরাওয়ার্দী, মাওঃ ভাষানী, মাওঃ তর্কবাগীশ, লেখক মুনসুর সহ প্রমুখ ব্যক্তিদের সাথে মুক্তিযুদ্ধপূর্ব রাজনীতি করলেও পরবর্তীতে তিনি সকল দলমতের মানুষের ভালবাসায় সিক্তহন। বঙ্গবন্ধু ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথেও তার বহুবার সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ হয়েছে।
ময়মনসিংহ ও ভালুকা অঞ্চলের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হেলাল উদ্দিন তাকে বাদেশী ও দেশবীর উপাধিতে ভূষিত করেন।
২০২০ সালে তার নামে প্রবর্তিত হয়- "বাদেশী পদক"। প্রতি বছর মুক্তিযুদ্ধে, শিক্ষাক্ষেত্রে ও সমাজ সেবায় অবদান রাখা ব্যক্তিকে এ পদক দেওয়া হয়।