বগুড়ার অগ্রসর যুব উন্নয়ন সংস্থা নামে প্রতিষ্ঠান খুলে গ্রাহকদের লোভনীয় অফার দিয়ে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত টাকা না পেয়ে সোমবার শহরের কাটনারপাড়া শিববাটি বিগবাজারে প্রতিষ্ঠানের সামনে সড়ক অবরোধসহ বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোছাঃ সাবিনা আহম্মেদ নামে এক গ্রাহক বাদী হয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের তিন জনকে আটক করে পুলিশে দেয়ার পর প্রতিষ্ঠান প্রধান আশিকুর রহমানসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ ও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে বগুড়া সদর থানায় গ্রাহকদের ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা দায়ের করা হয়।
আসামিরা হলো:-
১। মোঃ আশিকুর রহমান (৪৫), পিতা মোঃ আব্দুল ইং বারী, সাং বিহারহাট দক্ষিণপাড়া, থানা-শিবগঞ্জ, বর্তমান সাং-ফুলবাড়ী দক্ষিনপাড়া টিলা মসজিদ, জেলা-বগুড়া ২। মোছাঃ সুমনা আক্তার (৪৫), পিতা মোঃ রহিম মন্ডল সোনা মিয়া, মাতা-মোছাঃ মেহেরুন বেগম, সাং-বড় কুমিড়া খজপাড়া, জেলা-বগুড়া, ৩। মোছাঃ রোজিনা বেগম (৩৫), স্বামী মোঃ আশিকুর রহমান, সাং-কিচক, থানা-শিবগঞ্জ, বর্তমান সাং ফুলবাড়ী দক্ষিনপাড়া টিলা মসজিদ থানা-বগুড়া সদর ৪। মোঃ রাহাত (৩৭), পিতা অজ্ঞাত, সাং শিববাটি বিগ বাজার, থানা ও জেলা-বগুড়া এবং ধৃত উপরোক্ত ৫। মোঃ তৌফিক হাসান (৩৩), পিতা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সাং-বাদুরতলা, থানা-বগুড়া সদর, ৬। মোঃ রেজাউল করিম (৫০), পিতা মৃত বুদা আকন্দ, সাং-ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া, থানা-বগুড়া সদর ৭। মোছাঃ রিতু জাহান (২৯), স্বামী মোঃ আশিকুর রহমান, সাং-ফুলবাড়ী দক্ষিনপাড়া, বগুড়া, ৮। মোঃ জাহিদুল (৩৬), পিতা অজ্ঞাত, সাং-অজ্ঞাত, থানা-সারিয়াকান্দি, বগুড়া।
আটককৃতরা হলো, বগুড়া শহরের বাদুরতলা এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে তৌফিক হাসান (৩৩), শহরের ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত বুদু আকন্দের ছেলে রেজাউল করিম (৫০) ও একই এলাকার আশিকুর রহমানের স্ত্রী রিতু জাহান (২৯)।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলা বিহার হাট দক্ষিণপাড়া এলাকার আব্দুল বারীর ছেলে মোঃ আশিকুর রহমান গত ৮ থেকে ১০ বছর আগে বগুড়া শহরের কালীতলা বিগবাজার নামক স্থানে অগ্রসর যুব উন্নয়ন সংস্থা নামে প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে গ্রাহক সৃষ্টি করে। তারা লোভনীয় ল্যাংশের প্রলোভন দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে বিভিন্ন মেয়াদী সঞ্চয়, ডিপোজিট ও এফডিআর হিসেব খুলে টাকা জমা নেয়। এতে বাদীসহ প্রচুর গ্রাহক অল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় ওই সমিতিতে টাকা রাখে। মামলার বাদী সাবিনা আহম্মেদ উক্ত আসামিদের সহযোগিতায় ১ বছর মেয়াদী দু’টি এফডিআর হিসেবে টাকা জমা রাখেন। পরে গ্রাহকদের জমানো টাকার মেয়াদ পূর্ণ হলে তিনিসহ অন্যান্য গ্রাহকরা তাদের টাকার দাবি করলে সমিতির লোকজন টাকা না দিয়ে তাদের টাকা জমার বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে এ বিষয়টি জানাজানি হলে অন্যান্য গ্রাহকরা ছুটে এসে টাকা প্রদানের দাবি জানালে সমিতির লোকজন তাদের টাকা না দিয়ে বিভিন্ন প্রকার তালবাহানা ও সময় ক্ষেপন করতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় গত রোববার বেলা ১১টার দিকে শত শত গ্রাহক জড়ো হয়ে উক্ত কার্যালয়ে গিয়ে তাদের টাকা দেয়ার দাবি এবং বাদী তার ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদানের দাবি জানালে সমিতির লোকজন তাদের অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে ওই ৩ জনকে জনতা আটক করে, সদর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলেও বাঁকীরা পালিয়ে যায়।
উক্ত মামলার অন্য আসামিরা হলো, সুমনা আক্তার (৪৫), রোজিনা বেগম (৩৫), মোঃ রাহাত (৩৭), তৌফিক হাসান (৩৩), মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৩৬)।
এদিকে গত সোমবার ওই সমিতির শত শত গ্রাহক অগ্রসর যুব উন্নয়ন সংস্থা’র সামনে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। সমিতির বেশিরভাগ গ্রাহকই মহিলা হওয়ায় তাদেরকে সহজেই ভূল বুঝিয়ে টাকা সংগ্রহ করেছে বলে কয়েকজন গ্রাহক জানান। বিক্ষোভ প্রদর্শন কালে তারা উল্লেখিত স্থানে বগুড়া মাটিডালী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।