বগুড়া জেলা জজ আদালতের নকলখানা ও বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগ, আদালতের নকল সরবরাহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ নেওয়ার একটি প্রথা চালু রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নকলখানার দায়িত্বে থাকা মামুন নামের এক কর্মচারী নকল সরবরাহের নামে বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে জবরদস্তি/ বাধ্যতামূলক পরিস্থিতি তৈরি করে মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করেন। কয়েকজন নকল উত্তোলনকারী বিচারপ্রার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় বলে জানা গেছে। এসব প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিত্তিক একটি পেজে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হওয়ার পর আদালতপাড়া ও জেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সংবাদ প্রকাশের পর প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার প্রবণতা কমলেও এখন তা ‘নীরব ঘুষে’ রূপ নিয়েছে। আগে যেখানে আদালতের দপ্তরেই প্রকাশ্যে ঘুষ দাবি ও আদায় করা হতো, এখন নাকি অফিসের বাইরে বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আরও অভিযোগ রয়েছে, নকলখানার মামুনের বিরুদ্ধে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা ঘুষ আদায়ের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীদের হয়রানির চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে নকলখানার মামুন ছাড়াও আদালতের নেজারত শাখার নোটিশ হাওলাকারী রনি নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও জোরপূর্বক ঘুষ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন বিচারপ্রার্থী।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।