ঠাকুরগাঁওয়ে বারুনী স্নান উপলক্ষে ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই পুণ্যার্থী ও সাধু-সন্ন্যাসীরা সেনুয়া নদীর তীরে জড়ো হন। দল বেঁধে তারা নদীর উত্তর-দক্ষিণমুখী স্রোতে স্নান শুরু করেন।
মঙ্গলবার পৌর শহরের শ্মশান কালী মন্দিরের পেছনের সেনুয়া নদীর তীরে গঙ্গা মন্দির প্রাঙ্গনে এ উপলক্ষে স্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পুরোহিত শিবু গোস্বামী জানান চৈত্রের মধুকৃষ্ণা ত্রিদশী তিথির এই তিনদিনে নদীর উত্তর-দক্ষিণমুখী স্রোতে স্নান করলে পাপমোচন হয়। দেহ-মন পরিশুদ্ধ করতে অনেকে মাথার চুলও বিসর্জন দেন। স্বর্গীয় বাবা-মা, আত্মীয়স্বজনের মঙ্গল কামনায় মন্দিরে পূজার্চনা করেন ভক্তরা। স্নানমন্ত্র পাঠ করে অর্পণের মাধ্যমে স্নান সম্পন্ন করেন তারা।
নদীর পাড়ে বসেছে মেলা। এতে অংশ নিয়েছেন জেলাসহ আশপাশের হাজারও সনাতন ধর্মাবলম্বী। তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে মন্দির প্রাঙ্গণে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সহ মেলা চলবে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত।
বারুনী উৎসবের সভাপতি বিজয় কুমার রায় ও সাধারণ সম্পাদক নিতাই সিংহ বলেন, হিন্দু ধর্মের প্রথা অনুসারে বারুনী তিথিতে গঙ্গা স্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ তিথিতে গঙ্গা স্নান করে এক মনে ইশ্বরের কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করলে ইশ্বর সব পাপ ক্ষমা করে দেয় এবং ইশ্বরের অপার কৃপা লাভ করা যায়। এবারও নিজেদের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়েছে।সরকারিভাবে কোন সহযোগিতা পেলে আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠান করা সম্ভব।