মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে খুলনার রূপসা উপজেলার দেবীপুর এলাকায় বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মোসলেম আলী হাওলাদার ও হাবিবুর রহমান হাবিব এর কবর জিয়ারত, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার ২৬ শে মার্চ সকালে দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে অবস্থিত এই দুই শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধার কবর প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, বিএনপি নেতা দিদারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য জাহিদুল ইসলাম রবি, জেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কবীর শেখ, অ্যাড. মোস্তফিজুর রহমান, আফসার তালুকদার, রাজন শেখ, শিক্ষক আনন্দ দেবনাথ, জালাল শেখ, জামাল মোল্যা, মহাদেব পাল, হায়দার শেখ, মাসুদ, ফয়সাল মাহমুদ, মেহেদী হাসান, রবিউল ইসলাম, আলামিন ও আরাফাতসহ আরও অনেকে। কবর জিয়ারত শেষে শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত বক্তারা বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানানো জাতির নৈতিক দায়িত্ব। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় খুলনা অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অস্থায়ী কার্যালয় ও ক্যাম্প ছিল দেবীপুর এলাকায়।
মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই অঞ্চলটি ছিল সংগঠন, অবস্থান ও প্রতিরোধ সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
সেই সময়কার সংঘর্ষে বীরমুক্তিযোদ্ধা মোসলেম আলী হাওলাদার ও হাবিবুর রহমান হাবিব শহীদ হন। পরবর্তীতে তাদের মরদেহ এনে দেবীপুর এলাকায় সমাহিত করা হয়।
জরাজীর্ণ কবর সংস্কারের জোর দাবি অনুষ্ঠানে এলাকাবাসী ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুই শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর অযত্ন অবহেলায় জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও তাদের সমাধিস্থল যথাযথ সংরক্ষণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। এসময় এলাকাবাসী জোর দাবি জানান, দ্রুত এই দুই শহীদের কবর সংস্কার, সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করতে হবে।
পাশাপাশি এই স্থানটিকে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিচিহ্ন ও কমপ্লেক্সে রূপান্তর করারও দাবি তোলেন তারা। তাদের মতে, এটি শুধু দুই শহীদের কবর নয় এটি রূপসার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ত্যাগ ও গৌরবের এক জীবন্ত দলিল।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দেবীপুরে শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধাদের এই কবরস্থান সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানতে পারবে।
একই সঙ্গে এটি স্বাধীনতার জন্য জীবনদানকারী বীর শহীদদের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে থাকবে। মহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদ দুই বীরমুক্তিযোদ্ধার কবর জিয়ারত ও স্মরণানুষ্ঠান এলাকাবাসীর মধ্যে দেশপ্রেম, ইতিহাসচেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে নতুন করে জাগ্রত করেছে।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মোসলেম আলী হাওলাদার এর শহীদ গেজেট নম্বর ১৬৮২। তিনি আনসার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তার পিতা হামিদ আলী হাওলাদার এবং তিনি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার সুতালড়ী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
অপরদিকে, বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ হাবিবুর রহমান হাবিবের শহীদ গেজেট নম্বর ১৩৮
তার পিতা আজহার আলী খান। তিনি বরিশাল অঞ্চলের ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর এলাকার বানিয়াকাটি গ্রামের সন্তান ছিলেন।
তথ্যসূত্রে আরও জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল খুলনা রেডিও সেন্টার গল্লামারী কেন্দ্র দখল সংলগ্ন যুদ্ধে এই দুই বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভিক পর্যায়ে খুলনা অঞ্চলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই যুদ্ধ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় একটি অধ্যায়।