খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক পারিবারিক ট্র্যাজেডি।
যে ঘর ভালোবাসা আর আশ্রয়ের হওয়ার কথা, সেই ঘরেই স্বামীর আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন স্ত্রী খুরশিদা বেগম ( ৫০ )।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী খোকন শিকদার ( ৫৮ ) কে আটক করেছে রূপসা থানা পুলিশ। আর সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো—এই ঘটনায় পুত্রই বাদী হয়ে পিতার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,রূপসা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের ইউনুছ শিকদারের পুত্র খোকন শিকদার গত ২৬ শে মার্চ সকালে পারিবারিক কলহের জেরে তাঁর স্ত্রী খুরশিদা বেগমকে ঘরে থাকা একটি শাবল দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করেন।
আকস্মিক এই নৃশংস আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কিন্তু মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ২৭ শে মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঢাকার সিটি কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও মস্তিষ্কে জটিল আঘাতই শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সৃষ্টি হয় শোক ও চাঞ্চল্যের।
২৮ মার্চ অভিযুক্ত খোকন শিকদারকে শিয়ালি ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ প্রদীপ দাস আটক করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মিশকাত শিকদার বাদী হয়ে নিজ পিতা খোকন শিকদারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি জানান, তাঁর পিতা বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন। এ কারণে পরিবারে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ ও অশান্তি লেগে থাকত।
ঘটনার দিন সকালেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বিবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বিবাদ ভয়াবহ রূপ নেয়, আর তাতেই মায়ের জীবনের মর্মান্তিক পরিসমাপ্তি ঘটে। এ বিষয়ে রূপসা থানা পুলিশ পরিদর্শক ( তদন্ত ) মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খাঁন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত খোকন শিকদারকে আটক করা হয়েছে।
নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রূপসা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল
পারিবারিক অশান্তি, মানসিক অসুস্থতা ও রাগের নিয়ন্ত্রণহীন বিস্ফোরণ কখনো কখনো একটি পুরো পরিবারকে চিরদিনের জন্য ধ্বংস করে দিতে পারে। একজন স্ত্রীর মৃত্যু, এক সন্তানের মায়ের হারানো, আর এক পুত্রের নিজের পিতার বিরুদ্ধে মামলা। এ যেন একই পরিবারের বুকে নেমে আসা এক অসহনীয় শোকের অধ্যায়।