বান্দরবানের লামা উপজেলার বিভিন্ন নদী, ছড়া ও পাহাড়ি এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন শত শত ঘনফুট বালু উত্তোলন করে ট্রাক ও ডাম্পারযোগে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছে। এতে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, লামার কয়েকটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বালু তোলার কাজ চলে। নদীর তীর কেটে গভীর গর্ত তৈরি করা হচ্ছে, যার ফলে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন ও আশপাশের বসতভিটা বিলীন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক স্থানে কৃষিজমিও হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির সাথে যোগসাজশ থাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করা হলেও কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবার আগের মতো শুরু হয়ে যায় বালু উত্তোলন।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। শিগগিরই পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান নয়, অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, নইলে লামার পরিবেশ ও নদী ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।