বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের কালকী গ্রামে বসবাসকারী অসহায় মোঃ শাহে আলমের পরিবার আজ দুঃখ-কষ্ট আর অনিশ্চয়তার এক নির্মম বাস্তবতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। কালবৈশাখীর ভয়াবহ ঝড়ে তাদের একমাত্র বসতঘরের টিন উড়ে গেলে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে তাদের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও।
আজ সেই ঘরের উপর নেই কোনো টিন, নেই নিরাপদ ছাদ—কেবল কাগজ, পলিথিন আর ছেঁড়া ছাউনি দিয়ে কোনোভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন শাহে আলম ও তার স্ত্রী রহিমা বিবি। বৃষ্টি এলে পানি ঝরে পড়ে ঘরের ভেতরে, রোদ এলে মাথার ওপর আগুন ঝরে—এ যেন জীবন্ত এক দুঃসহ সংগ্রামের নাম।
দারিদ্র্যের নির্মমতায় জর্জরিত এই পরিবারটির নেই কোনো আয়ের উৎস। স্ত্রী রহিমা বিবি বাধ্য হয়ে হাটে-বাজারে, পথে-ঘাটে মানুষের কাছে হাত পেতে ১০-৫ টাকা সহযোগিতা নিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। মানুষের দান-অনুদানের উপরই টিকে আছে তাদের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত।
অন্যদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মোঃ শাহে আলম আজ অসুস্থতার কাছে পরাজিত। কয়েক বছর আগে ইরি ধানের মাঠে কাজ করতে গিয়ে ভারী বোঝা বহনের সময় পড়ে গিয়ে তার পা ও কোমরে গুরুতর আঘাত লাগে। তখন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কোনোভাবে কাজ চালিয়ে গেলেও ২০২৫ সালে আমন ধানের মাঠে কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ তীব্র ব্যথায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর আর স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে পারেননি।
বর্তমানে তার কোমরের মেরুদণ্ডে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন লাঠির উপর ভর করে কষ্টে কষ্টে চলাফেরা করেন। কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন পুরোপুরি। সংসারের ভার, চিকিৎসার খরচ—সবকিছুই আজ তাদের নাগালের বাইরে।
চারদিকে যখন উন্নয়নের গল্প, তখন কালকী গ্রামের এই অসহায় পরিবারটি বেঁচে থাকার জন্য লড়ছে প্রতিনিয়ত। তাদের চোখে শুধু অনিশ্চয়তা, মনে শুধু বেঁচে থাকার আকুতি।
স্থানীয়দের মতে, একটু সহানুভূতি, একটু সাহায্য—হয়তো বদলে দিতে পারে এই পরিবারটির জীবন। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।