যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের মাঝে অর্ধ-গলিত খাবার স্যালাইন সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার মমিনপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ১৯ মাস বয়সী মেয়ে মাইমুনা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে গত রোববার (৫ এপ্রিল) তাকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। বহির্বিভাগে টিকিট কেটে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সমরেশ রোগী পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্রে খাবার স্যালাইনসহ অ্যাপ্রসিন, টিফল, পেপ-২, ওমিডন সিরাপ ও প্রোবায়ো ক্যাপসুল লিখে দেন।
পরবর্তীতে প্রেসক্রিপশনে উল্লেখিত ওষুধগুলো ফার্মেসি থেকে ক্রয় করা হলেও হাসপাতাল থেকে তাকে ১০টি খাবার স্যালাইন সরবরাহ করা হয়। বাড়িতে গিয়ে শিশুকে স্যালাইন খাওয়ানোর সময় আলতাফ হোসেন দেখতে পান, স্যালাইনগুলো অর্ধ-গলিত অবস্থায় রয়েছে। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসকদের বিষয়টি জানালে তারা ওই স্যালাইন খাওয়াতে নিষেধ করেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের স্যালাইন বিতরণের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র স্টাফ নার্স মমতা রানী মল্লিক বলেন, বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহনেওয়াজকে জানানো হয়েছে। তার নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব স্যালাইন বিতরণ করতে বলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহনেওয়াজ এ ধরনের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “প্যাকেজিংয়ের কারণে স্যালাইন এমন দেখাতে পারে, তবে এর গুণগত মান ঠিক থাকে এবং এটি খাওয়ায় কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট স্যালাইনগুলো যশোরের একটি উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহ করা হয়েছে।
এদিকে, এমন ঘটনায় রোগী ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।