সারাদেশে যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের জান মাল নিরাপত্তা সহ তাদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিচ্ছে ঠিক তখনই রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সনাতনী এক পরিবারকে সর্ব শান্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
ঘটনাটি ঘটেছে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামে।
অভিযোগে জানা যায় , ঘাটভোগ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু সুদের টাকা ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধের কথা বলে সনাতন সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির দিতলা বাড়িসহ বসতভিটা ও বিলের জমি প্রতারণা করে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন ।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার এখন বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে । ঘটনাটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়াই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন অপকৌশলে লিপ্ত হয়েছেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ।
সূত্র জানায়, উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, চাঁদপুর গ্রামের নাজির শেখের ছেলে আজিজুল ইসলাম নন্দু ইউপি সদস্য থাকা অবস্থায় বিগত সরকারের আমলে শিয়ালী গ্রামের চারু মল্লিকের পুত্র কৃষ্ণ মল্লিকের নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে তার প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা মূল্যের সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছেন ।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে কৃষ্ণ মল্লিক নন্দুর কাছ থেকে ৫ শতাংশ সুদে দেড় লাখ টাকা ধার নেন। এরপর প্রতি মাসে সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। একই সঙ্গে তিনি বিলের ৫ বিঘা জমি ব্যাংকে বন্ধক রেখে সেখান থেকেও ঋণ নেন। ব্যাপক আর্থিক অনটনের পড়েও বিভিন্নভাবে নন্দুকে সর্বমোট ৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রদান করেছেন বলে ভুক্তভোগী কৃষ্ণ মল্লিক জানান ।
তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে টিম কে জানান যে , নন্দুর সুদের টাকা ও ব্যাংকের ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে তিনি ( কৃষ্ণ মল্লিক ) বিলের ৫ বিঘা জমি আজিজুল ইসলাম নন্দুকে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ।
একপর্যায়ে আরো ৪ লাখ টাকা নন্দুর নিকট থেকে গ্রহণ করে বিনিময়ে জমি লিখে দেওয়ার জন্য উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাই।
কিন্তু আমার সরলতার সুযোগে এবং আমি অশিক্ষিত হওয়ায় কৌশলে নন্দু বিলের জমির সঙ্গে আমার ৮ কাঠা জমির ওপর নির্মিত দুইতলা বাড়িসহ বসতভিটা দলিল করে নিয়ে নেয় ।
বিষয়টি আমি পরে বুঝতে পারলে নন্দুকে আমি বসতভিটা ফিরিয়ে দিতে বলি । কিন্তু সে নানান তালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করেছে । বর্তমানে নন্দু আমার বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করার জন্য বারবার আমাকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে ।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও এখনো তিনি তার বসতভিটা ফেরত পাননি।
সূত্র জানায়, সাবেক এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এক সালিশে নন্দু উক্ত বাড়ি ফেরত দিতে রাজি হয়েছিল।
কিন্তু সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে বাড়ি ফেরত দেয়ার প্রসঙ্গটিও পাল্টে দিয়েছে নন্দু ।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক মেম্বার সজিব মোল্লা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম। সাবেক এমপির হস্তক্ষেপে সালিশে নন্দু ভুক্তভোগী কৃষ্ণ মল্লিককে বাড়ি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু পরে সে বাড়ি ফেরত না দিয়ে উল্টো উচ্ছেদের চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু বলেন “আমি নগদ টাকা, মাছের খাবার কিনে দেওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন খাতে মোট ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কৃষ্ণ মল্লিকের কাছ থেকে বাড়ির জমিসহ বিলের ৫ বিঘা জমি কিনেছি। আমার কাছে জমির দলিল, স্ট্যাম্প ও সাক্ষী আছে।
বসত ভিটা ফিরে পাওয়ার আশায় অবশেষে ভুক্তভোগী কৃষ্ণ মল্লিক খুলনা - ৪ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপি তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালের শরণাপন্ন হয়েছেন।
তিনি অতিসত্বর তার বসতভিটা ফিরে পাওয়ার জন্য সংসদ সদস্যের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।