মোঃ খলিলুর রহমান,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে নীলফামারীর ৬টি উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানাভাবে তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীক না দেওয়ার ঘোষণায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। অন্য দলের কয়েক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও বিএনপির কোনো প্রার্থীর নাম এখন পর্যন্ত শোনা যায়নি। সরকারদলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি এবার নতুন প্রার্থী বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ এবার দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হিসাব-নিকাশ অনেকটাই পাল্টে যাচ্ছে। নিজ দলের নেতাদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যানরা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন বলয়ে সক্রিয় হচ্ছেন।
সবশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নীলফামারীর ৬টি উপজেলার মধ্যে চারটিতে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন প্রার্থীরা। তারা হলেন- নীলফামারী সদর উপজেলায় শাহিদ মাহামুদ, ডোমার উপজেলায় তোফায়েল আহম্মেদ, সৈয়দপুর উপজেলায় মোখছেদুল মোমিন, ডিমলা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের দুই নেতা জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবুল কালাম বারী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নৌকার প্রার্থীদের পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমান সব চেয়ারম্যানই এবার দলীয় প্রতিপক্ষের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মনে করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা কৌশলে ইতোমধ্যেই তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি জানান দিচ্ছেন।
নীলফামারী সদর উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ আবারও প্রার্থী হবেন। তবে তার সামনে শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন নীলফামারী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুজার রহমান। গণসংযোগের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই তার প্রার্থিতার বিষয়টি জানান দিয়েছেন তিনি।
ডোমার উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদকে চ্যালেঞ্জ জানাতে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন, বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মালেক এবার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে। ডিমলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তবিবুল ইসলামকে এবার লড়তে হবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক সরকার মিন্টু ও নীলফামারী জেলা পরিষদের সদস্য উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌস পারভেজের সঙ্গে। তারা মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুর এবারও প্রার্থী হবেন। তিনি গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। তার সঙ্গে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আজম এলিচ। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদ হোসেন রুবেল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আনছার আলী মাঠে রয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে। কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবুল কালাম বারী এবারও প্রার্থী হবেন। তিনি গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। তবে তার সামনে কয়েকজন শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পতিরাম চন্দ্র রায় ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাইনুল আরফিন সপু প্রার্থী হতে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোখছেদুল মোমিন এবারও প্রার্থী হবেন। এবার তাকে লড়তে হবে একাধিক দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এই উপজেলায় প্রার্থী হতে নিয়মিত গণসংযোগ করে যাচ্ছেন সৈয়দপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিন প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে।