এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি ব্র্যাক স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। সোমবার দুপুর ১টার দিকে শিশুটি তার দুলাভাইয়ের চায়ের দোকানে যায়। ওই সময় দোকানের মালিক ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে প্রতিবেশী মৃত কাশেম আলীর ছেলে আবু বক্কর (৬৫) শিশুটিকে কৌশলে ফুসলিয়ে পাশের একটি কাঁচামালের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে দোকানের সাটার নামিয়ে শিশুটির শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার শুরু করে।
এ সময় শিশুটির এক আত্মীয় বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং স্থানীয়দের খবর দেন। জনগণের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত বৃদ্ধ আবু বক্কর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা অত্যন্ত অসহায়। মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা এই নারী গত ৫-৬ বছর ধরে স্বামীর থেকে আলাদা থেকে বড় বোনের বাড়িতে মেয়েকে বড় করছেন।
ভুক্তভোগীর মা জানান, ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া বা আপস-মীমাংসার চেষ্টা করলেও তিনি ন্যায়বিচারের আশায় অনড় থাকেন। মেয়ের ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক সম্মানের কথা ভেবে প্রথমে কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাম মোহাম্মাদ গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, একজন ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ কর্তৃক ৬ বছরের শিশুর ওপর এমন অমানবিক আচরণের ঘটনায় পুরো দাসগ্রাম এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
