গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারিয়াপুর আমান উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানোকে কেন্দ্র করে সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ, উদ্বেগ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দারিয়াপুর হাট থেকে প্রতিবছর প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব আদায় হয়। এরপরও হাটের নিজস্ব পরিসর সম্প্রসারণ না করে একটি চলমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহার করায় প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
বিদ্যালয়ের একাধিক সাবেক শিক্ষার্থী জানান, এই বিদ্যাপীঠের সঙ্গে তাদের আবেগ, স্মৃতি ও ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। কিন্তু বিদ্যালয় মাঠে গরুর হাট বসানোয় তারা গভীরভাবে ব্যথিত ও হতাশ। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও মর্যাদা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব।
স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে কীভাবে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হলো। এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও শিক্ষার পরিবেশ উপেক্ষা করে বাণিজ্যিক বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশঙ্কা, গরুর হাটের কারণে বিদ্যালয়ের ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া এলাকায় পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ারও শঙ্কা রয়েছে। ঈদের পর শিক্ষার্থীদের সেই মাঠ দিয়ে শ্রেণিকক্ষে যাতায়াত করতে হবে, যা স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নষ্ট করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
তারা আরও বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অভিযোগ নয়; বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা এবং এ ধরনের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।