খুলনার রূপসা উপজেলার সামন্তসেনা গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় আব্দুল্লাহ (২২) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি নতুনহাট বাজারের চা-দোকানদার আজমলের ছেলে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন ( বৃহস্পতিবার ) রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে সামন্তসেনা মধ্যপাড়া মসজিদ সড়কে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কতিপয় দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গত ২৬ জুন ( শুক্রবার ) বিকেলে নতুনহাট বাজারে এলাকাবাসী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
মাগরিবের নামাজের পর বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। নৈহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মিন্টুর নেতৃত্বে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান তপনের সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাজ্জাদ সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তব্য দেন নৈহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন মিন্টু। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এসব অপরাধ দমনে কার্যকর অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি সামন্তসেনা, দেবীপুর, খাজাডাঙ্গা, কাজদিয়া ও তালতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান জোরদারের দাবি জানান। একই সঙ্গে উজির ফকিরের ছেলে মিঠু ফকিরের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন। এ সময় তার বক্তব্যকে উপস্থিত সাধারণ মানুষ স্বাগত জানান।
অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বনি আমিন সোহাগ, বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান তপন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ সরদার, বিএনপি নেতা কামরুল ফকির, সাবেক ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান, বাজার কমিটির সভাপতি ওহিদুল সর্দার, সেক্রেটারি মামুনুর রশিদ, দোকানদার মাসুদ ফকির ও সিনিয়র ব্যবসায়ী সারোয়ারসহ অনেকে।
কর্মসূচিতে এলাকার সাধারণ জনগণ, বাজারের ব্যবসায়ী, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।