খুলনার রূপসা উপজেলার সদরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কাজদিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এবছর বিদ্যালয় থেকে মোট ২৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলো তার মধ্যে ১৭ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।
যার মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১৩ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে। বৃত্তি অর্জনের দিক থেকে বিদ্যালয়টি রূপসা উপজেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে। বিদ্যালয়ের এমন সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ট্যালেন্টপুলে ১৩ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন টিএসবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক কাজদিয়া গ্রামের খান আনোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ আরজিম খান আনাফ, কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রভাষক গোয়াড়া গ্রামের ফাল্গুনী মুখার্জীর মেয়ে দেবলীলা মুখার্জী, স্বল্পবাহিরদিয়া গ্রামের গৌতম দাসের ছেলে অর্পন দাস, সামন্তসেনা গ্রামের মোঃ আঃ হালিমের ছেলে মোঃ মিকাইল শেখ, মুন্সীগঞ্জ জেলার মহাকালী গ্রামের মোঃ আল-আমিনের ছেলে রুহুল আমিন রিফাত, কাজদিয়া গ্রামের পলাশ সাহার ছেলে প্লাবন সাহা, বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ খানপুর গ্রামের বিকাশ পালের ছেলে পৃথীরাজ পাল, সামন্তসেনা গ্রামের আঃ খালেক গাজীর ছেলে গাজী ইশরাক ইহান, গোয়ালবাথান গ্রামের ফ.ম. ওবাইদুর রহমানের ছেলে ফ.ম. রাফিউল ইসলাম, পাঁচানী গ্রামের শেখ রাজু হোসেনের ছেলে শেখ তাসাউফ সাফিন, যশোর জেলার শ্যামনগর গ্রামের মুনজুর হোসেনের মেয়ে তামান্না খাতুন, পাথরঘাটা গ্রামের সুভাষ হালদারের মেয়ে তৈশি হালদার, সামন্তসেনা গ্রামের মিজানুর রহমান স্বপনের মেয়ে মাইশা জান্নাত। সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৪ জন শিক্ষার্থীরা হলেন কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তালতলা গ্রামের তুষার কান্তি দত্তের ছেলে অরন্য দত্ত, সামন্তসেনা গ্রামের আজাদ শেখের মেয়ে আয়শা রিতু, পাঁচানী গ্রামের কামরুল শেখের মেয়ে মোঃ সুরাইয়া খাতুন, সামন্তসেনা গ্রামের খান শরীফুল ইসলামের মেয়ে তানিশা তানভী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাবানা বলেন, এই সাফল্য আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, পরিচর্যা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক দেবদাস বৈরাগী বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণেই এই সাফল্য এসেছে। এই অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা আশা করি, শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মোঃ আরজিম খান আনাফের অভিভাবক ও টিএসবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক খান আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার সন্তানের এই সাফল্যে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক পরিশ্রম, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সুন্দর শিক্ষা পরিবেশের কারণেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ।
বৃত্তিপ্রাপ্ত দেবলীলা মুখার্জির অভিভাবক কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রভাষক ফাল্গুনী মুখার্জী বলেন, আমার মেয়ের এই সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, নিয়মিত পাঠদান ও সঠিক দিকনির্দেশনার কারণেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। কাজদিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার ক্ষেত্রে যে সুনাম অর্জন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অরন্য দত্তের অভিভাবক কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক তুষার কান্তি দত্ত বলেন, আমার সন্তানের এই সাফল্যে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সন্তানের পরিশ্রমের ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।
বিদ্যালয়ের এ সাফল্যে এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী মহল বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তারা আশা প্রকাশ করেন, কাজদিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আগামী দিনেও শিক্ষার ক্ষেত্রে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে।