বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ চত্বরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিভিন্ন সংস্কার ও নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বাস্তবে কোনো কাজ না করেই প্রায় ৮৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকা তুলে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
ইউএনও-র বাসভবন, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, অফিসার্স ক্লাব সংস্কার এবং সীমানা প্রাচীর পুনঃনির্মাণের কোনো দৃশ্যমান কাজ করা হয়নি। অথচ ঠিকাদাররা বরাদ্দের পুরো টাকাই তুলে নিয়েছেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সাড়ে ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দের মাত্র পাঁচ মাস পর, ২০২৪ সালের মে মাসে একই ধরণের প্রকল্পে আবারও ৫৩ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরকারি প্রজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি প্রকল্পে কোনো ধরনের পূর্ব-অনুমোদন ছাড়াই ৫৮ লাখ টাকার কার্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
চত্বরের পুরনো ভবন বা শেড ভাঙার পর সেখান থেকে পাওয়া পুরনো সরকারি ইটের কোনো হিসাব মেলেনি।
উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা দাবি করেছেন, গত ২৫ জুনের মধ্যে কাগজে-কলমে শতভাগ কাজ শেষ দেখিয়ে ঠিকাদাররা চূড়ান্ত বিল তুলে নিয়েছেন।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হক জানিয়েছেন, তড়িঘড়ি করে বিল পরিশোধ এবং প্রকল্প নাম ব্যবহারের অসংগতিগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর পক্ষ থেকে একে স্পষ্ট প্রশাসনিক দুর্নীতি আখ্যা দিয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানানো হয়েছে।