গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল হঠাৎ পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের সেবার মান, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, অবকাঠামো এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম সরকার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ ময়নুল হাসান সাদিক, জেলা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, সিভিল সার্জন রফিকুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল নবী টিটুলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসীর ব্যানারে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে মন্ত্রী নিজে সেখানে গিয়ে অভিযোগগুলো শোনেন এবং বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত দীর্ঘ ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতকে অবহেলা করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস হয়েছে, তবুও চিকিৎসকদের নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত ও দুর্নীতি বন্ধে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিতে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা রয়েছে, যা নোট করা হয়েছে এবং ঢাকায় ফিরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ৯ তলা বিশিষ্ট হাসপাতালের নতুন ভবন চালুর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে ভবনটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে ভবনটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে মন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে সরকারি ওষুধ সাধারণ রোগীদের না দেওয়ার অভিযোগে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী এবং মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন।