কিস্তি আদায়ের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক নারী সদস্যকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর মাঠকর্মী মো. জিকরুল আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে ওই এনজিও কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন স্থানীয় জনতা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের রাধাকৃষ্ণপুর এলাকায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. জিকরুল আলম বর্তমানে গাকের গাইবান্ধা সদর ব্রাঞ্চে মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত।তার বাড়ি নীলফামারী জেলার ডিমলায়।জিকরুলের ঘড়ে স্ত্রী ও ৬ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। এর আগে তিনি গাইবান্ধা জেলার দাড়িয়াপুর ব্রাঞ্চে দায়িত্ব পালন করতেন। প্রায় এক মাস আগে তিনি সদর ব্রাঞ্চে যোগদান করেন। দায়িত্বের অংশ হিসেবে বোয়ালী ইউনিয়নের রাধাকৃষ্ণপুর এলাকায় নিয়মিত কিস্তি আদায় ও সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য যাতায়াত করতেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় কিস্তি আদায়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গাক এর এক নারী সদস্যের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে তাকে আপত্তিকর ও অনৈতিক প্রস্তাব দেন জিকরুল আলম। বিষয়টি একপর্যায়ে জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় কয়েকজন তাকে আটক করে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
এ সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই গাক এর কর্মীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে কিস্তি আদায় ও সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে একজন এনজিও কর্মীর ওপর যে ধরনের পেশাগত দায়িত্ব ও আস্থার সম্পর্ক থাকে, সেটিকে ব্যবহার করে কোনো নারী সদস্যকে ব্যক্তিগত বা অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করা হলে তা অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। এমন অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু একজন কর্মীর ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়, বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পেশাগত শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তির জন্যও উদ্বেগজনক।
স্থানীয়রা আরও বলেন, এনজিওর মাঠকর্মীরা সাধারণত সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে কিস্তি আদায় ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ফলে তাদের আচরণ ও পেশাগত দায়িত্বশীলতার ওপর সদস্যদের আস্থা অনেকটাই নির্ভরশীল। সেই সুযোগে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তবে জিকরুল আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জনতার হাতে আটক হওয়ার পর তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয়।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট নারী সদস্যের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের অন্যান্য তথ্য যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে গাক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের বিধিমালা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ে কর্মরত এনজিও কর্মীদের আচরণ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনাটি নিয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এখন তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়—সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয়রা।