বগুড়ার নন্দীগ্রামে ফাতেমা ক্লিনিক ও সেবা হসপিটালে রোগীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত ডিউটি ডাক্তার না থাকলেও চিকিৎসা সেবার নামে চলছে অপচিকিৎসা। ব্যক্তি পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, জাল সনদে নার্স, হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে অপারেশন, পরীক্ষা নিরীক্ষার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং ভুল চিকিৎসায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের ওপর নির্ভরশীল কথিত ক্লিনিকে রোগীদের সাথে চলছে স্রেফ প্রতারণা।
সোমবার নন্দীগ্রাম পৌর শহরের ফাতেমা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ও সেবা হসপিটালে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। হাতুড়ে চিকিৎসার দুই ক্লিনিকসহ ৬ প্রতিষ্ঠানে লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার। থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং টিমের প্রসিকিউটর ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অপচিকিৎসা ঠেকাতে শহরের বাসস্ট্যান্ড ও পুরাতন বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার, ডেলিভারি রুমে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি না থাকা, হালনাগদকৃত লাইসেন্স না থাকা, নিয়মিত ডিউটি চিকিৎসক না থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ নানা অপরাধে চার ক্লিনিক ও দুই ব্যক্তির জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে অর্থদন্ডিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফরহাদ শিবলুর ফাতেমা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিকের পরিচালক দিনা পারভীনের ১০ হাজার টাকা, সেবা হসপিটালের নুসরাত জাহানকে ৩০ হাজার টাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকায় নন্দীগ্রাম ইসলামিয়া হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মঞ্জুরুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা এবং হেলথ কেয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আল মাসুদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এছাড়া লাইসেন্স ব্যতীত চিকিৎসা প্রদান, স্যালাইন, ইনজেকশন পুশ করা, স্টোমাক ওয়াশ করা, ড্রেসিং করাসহ নানা অপরাধে জরিমানা গুনেছে দুই ফার্মেসি। নন্দীগ্রাম হিন্দুপাড়ার আব্দুল কাদের ২০ হাজার টাকা ও ওমরপুর এলাকার আব্দুর রশিদের ৬ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে বগুড়ার স্বাস্থ্য বিভাগের সেবা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক, নার্স, সহায়ক কর্মী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, টেকনিশিয়ান ও ক্লিনার সংখ্যা খুবই কম। অব্যবস্থাপনার এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ব্যক্তি পরিচালিত ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ও বেসরকারি হাসপাতাল। চিকিৎসা সেবার নামে গড়ে ওঠা ক্লিনিকের অভ্যন্তরে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্র-উপকরণ নেই। নিজস্ব বর্জ্য চিহ্নিতকরণ, পৃথকীকরণ ও বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা দেখা যায়নি।