বগুড়ার নন্দীগ্রামে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া ঘাঁস মারা ওষুধে (আগাছানাশক) পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তিন কৃষকের দেড় বিঘা জমির মরিচ খেত। আর মাত্র ১০ দিন পরেই খেত থেকে কাঙ্ক্ষিত মরিচ তোলা শুরু হতো। কিন্তু এক রাতের তাণ্ডবেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর পরিবারের স্বপ্ন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে নন্দীগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট গভীর রাতে উপজেলার ১ নম্বর বুড়ইল ইউনিয়নের দমদমা মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন ধুন্দার দারোগাপাড়া মৌজায় এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কৃষকেরা হলেন ধুন্দার দারোগাপাড়া গ্রামের মৃত ইকন আলীর দুই ছেলে মো. নুর আলী ও মো. পিয়ার আলী এবং ধুন্দার খাশপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মো. জাকারিয়া।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, তিনজনে মিলে দেড় বিঘা জমিতে ব্যাপক শ্রম ও যত্নে মরিচের আবাদ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার ও কীটনাশক বাবদ তাঁদের আনুমানিক দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। খেতের ফলন যা হয়েছিল, তাতে এবার অন্তত ৮ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করার আশা ছিল তাঁদের। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে শত্রুতামূলকভাবে পুরো খেতে ক্ষতিকর আগাছানাশক স্প্রে করে সব গাছ মেরে ফেলা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খেতের পর খেত সবুজ মরিচ গাছগুলো শুকিয়ে লালচে হয়ে হেলে পড়েছে। এ দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। ভুক্তভোগী নুর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "১০ দিন পরেই মরিচ তুলে বিক্রি করতাম। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। ঘাম ঝড়ানো টাকা আর ঋণ করে ফসল বুনেছিলাম, এখন আমরা নিঃস্ব।"
ক্ষতিপূরণ আদায় ও জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এতে নির্দিষ্ট কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।