রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন একই এলাকার বাসিন্দা এবং নিহত পরিবারের পূর্বপরিচিত ছিলেন। তারা গণপতি চক্রবর্তীকে ‘কাকা’ বলে ডাকতেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় তারা পাশের ভবনের ছাদ হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবন করছিলেন। এ সময় গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে বকাঝকা করলে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও একই কায়দায় হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে তারা জানিয়েছেন। পরে মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। আর ঘরের মধ্যে থাকা ছোট ছেলেকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর তারা ওই বাসার ওয়াশরুমে গোসল করেন এবং ঘরে বসে আবারও ইয়াবা সেবন করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। এরপর বাসার আসবাবপত্র ও স্বর্ণালংকার তল্লাশি করে লুটের মালামাল সংগ্রহ করেন তারা। স্বর্ণালংকার আসল না নকল, তা যাচাই করতে আগুন ব্যবহার করার কথাও পুলিশকে জানিয়েছেন গ্রেপ্তাররা।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় পরিবারের সদস্যদের সন্ধানে লোকজন আসতে পারে এবং মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতির কারণে বাইরে চলাচল বেশি থাকবে—এমন পরিস্থিতিতে ধরা পড়ার আশঙ্কা কম হবে বলে তারা অপেক্ষা করতে থাকেন। রাতভর ওই বাসায় অবস্থান করার সময় ডাইনিংয়ে বসে খেজুর ও ফ্রিজে থাকা শসা খান তারা।
পরে জুমার নামাজের সময় হলে ছাদ দিয়ে পাশের ভবনের দিকে গিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন গ্রেপ্তাররা।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি লুট করা অবশিষ্ট মালামালের সন্ধান দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। একই পরিবারের চারজনকে হত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মাদকাসক্তি ও মাদককে কেন্দ্র করে এমন ভয়াবহ অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিকভাবেও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।