
নিজস্ব বিমান ইঞ্জিন প্রযুক্তি তৈরির লক্ষ্যে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) এবং ফ্রান্সের Safran Helicopter Engines নতুন প্রজন্মের হেলিকপ্টার ইঞ্জিন উৎপাদন ও উন্নয়নের জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য 'Safhal Helicopter Engines Private Limited' নামে একটি যৌথ উদ্যোগ গঠন করা হয়েছে। নতুন এই ইঞ্জিনটির নামকরণ করা হয়েছে ভারতের প্রাচীন অরাবল্লী পর্বতমালার নামানুসারে।
চুক্তি অনুযায়ী, ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার শ্যাফ্ট হর্সপাওয়ার ক্ষমতার এই ইঞ্জিনটির নকশা, উন্নয়ন, উৎপাদন, সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের পুরো দায়িত্ব এই যৌথ উদ্যোগের ওপর ন্যস্ত থাকবে। ভারতের ভবিষ্যৎ ১৩ টনের 'ইন্ডিয়ান মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার' (IMRH) প্রকল্পে এই ইঞ্জিন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য প্রস্তাবিত 'ডেক-বেসড মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার'-এও অরাবল্লী ইঞ্জিন ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
হেলিকপ্টার প্রযুক্তির অন্যতম জটিল অংশ হলো ইঞ্জিন, যার জন্য এতদিন ভারতকে বিদেশি নির্মাতাদের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করতে হতো। অরাবল্লী প্রকল্পের মাধ্যমে দেশেই উন্নত ইঞ্জিনের নকশা ও উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে উঠবে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বনির্ভরতা বাড়াবে। HAL-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবি কে এই চুক্তিকে ভারতের বিমান ইঞ্জিন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, Safran Helicopter Engines-এর প্রধান নির্বাহী সেড্রিক গোবে জানিয়েছেন, এই প্রকল্প ভারত ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।
প্রকল্পটিতে আধুনিক নকশা প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন পদ্ধতি এবং কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এতে কর্মক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, HAL ও Safran-এর সহযোগিতার ইতিহাস বেশ পুরনো। এর আগে চিতা ও চেতক হেলিকপ্টারের আর্তুশ্ত ইঞ্জিন এবং শাক্তি ইঞ্জিনের ক্ষেত্রেও তারা সফলভাবে কাজ করেছে। বর্তমানে ভারতের অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার, লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার এবং লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টারে শাক্তি ইঞ্জিন ব্যবহৃত হচ্ছে।
অরাবল্লী প্রকল্প সেই দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে সামরিক ব্যবহারের পাশাপাশি অসামরিক ক্ষেত্রেও এই ইঞ্জিন ব্যবহারের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারেও এটি রপ্তানি করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে, এই চুক্তি ভারতের বিমান প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।