গাইবান্ধা সদর উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে চাকু, শাবল, লোহার চেইন, কুড়ালসদৃশ অস্ত্র, স্টিলের পাইপ, ছোরা ও হাতুড়িসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার, গাইবান্ধার সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩০ আগস্ট গাইবান্ধা সদর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ৫ নম্বর বল্লমঝাড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কোমরপুর গ্রামের মো. রাসেল মিয়ার (৩০) টিনশেড বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাড়ির উত্তর দিকের শয়নকক্ষের তোষকের নিচ থেকে একটি সুইচ গিয়ার টিপ চাকু, একটি লোহার শাবল, একটি লোহার চেইন, চাইনিজ কুড়ালসদৃশ কাঠের বাটযুক্ত একটি দেশীয় অস্ত্র এবং একটি স্টিলের পাইপ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল মিয়া উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো বিভিন্ন অপরাধ সংঘটন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজে ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে গাইবান্ধা শহরের ব্রিজরোড কালিবাড়ী এলাকার হৃদয় সরকার পনির ওরফে পূর্ণ (৪০)-এর বাড়ির সামনে অভিযান চালানো হয়।
ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হৃদয় সরকার পনির ওরফে পূর্ণ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বসতবাড়ির পূর্ব দিকের শয়নকক্ষের তোষকের নিচ থেকে একটি লোহার ধারালো ছোরা ও লোহার বাটযুক্ত একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি অবৈধ দেশীয় অস্ত্র নিজেদের হেফাজতে রেখে পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মামলা নম্বর-৬৯ দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এফ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের পর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।