চলন্ত ট্রেনে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ট্রেনের ক্যান্টিনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলেও, ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী দায়িত্বে থাকা তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তবে তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দীর্ঘ যাত্রায় ট্রেনকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলনামূলক নিরাপদ গণপরিবহন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এমন একটি নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেই যদি কোনো নারী যাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন, তাহলে বিষয়টি শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয় যাত্রী নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর জবাবদিহির প্রশ্ন।
ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পার হলেও অভিযোগে থাকা তিন পুলিশ সদস্যের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা জরুরি।
অভিযোগ সত্য হলে ক্যান্টিন কর্মীসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হলেও, আইনের আওতায় আনতে হবে। একইভাবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করা যাবে না। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা কিংবা অসত্যতা স্পষ্ট করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
একজন ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো পুলিশ বাহিনী বা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কোনো সদস্যের পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে অপরাধ আড়াল করার সুযোগ দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কয়েক শ যাত্রী থাকা একটি চলন্ত ট্রেনে একজন নারী কীভাবে এমন ভয়াবহ ঘটনার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুললেন? নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা তখন কোথায় ছিলেন?
রেলওয়ে ও পুলিশ—উভয় প্রতিষ্ঠানই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত। তাই এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ট্রেনে নারীসহ সব যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াও প্রয়োজন।