
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মন্ত্রী তার পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রাপ্ত হবেন।
এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) সরকারের মন্ত্রিসভায় ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদিত হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছিলেন যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের এমন বক্তব্যের পর দেশের সোয়া ছয় লাখেরও বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক অসন্তোষ তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট’ দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানায়। জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এক বিবৃতিতে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পেয়ে থাকেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই সরকার এমপিওভুক্তদের জন্যও পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
বর্তমানে সারা দেশে সোয়া ৬ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত রয়েছেন। এতদিন তারা মূল বেতনের পাশাপাশি ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সুবিধা দুই ধাপে কার্যকর করা হয়েছে; যার প্রথম ধাপে ১৫ শতাংশের মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ (ন্যূনতম ২ হাজার টাকা) ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর এবং বাকি সাড়ে ৭ শতাংশ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।