
দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে মুক্ত করতে সরকার একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা সুলতানার (৩৩৫ মহিলা আসন-৩৫) এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা জানান। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া এই অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় প্রণীত ভুল পরিকল্পনার কারণে জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। এই সংকট থেকে উত্তরণের উপায় তুলে ধরে তিনি জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে ৩০টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে চলমান ৭টি কূপের খনন কাজ শেষ হলে আরও ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যাবে এবং অবশিষ্ট কূপগুলোর জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে আরও ২টি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে এবং অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা চলছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন এক বা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লি।