সাতক্ষীরায় চাকরির লিখিত পরীক্ষা দিতে আসা এক মায়ের তিন মাস বয়সী দুধের শিশুকে পরম মমতায় কোলে নিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জেলা পুলিশের নারী কনস্টেবল/৭০৭ শিল্পী ঢালী। পরীক্ষার্থীর দুশ্চিন্তা দূর করে শিশুটিকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখার ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছেন এই পুলিশ সদস্য।
জানা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সাতক্ষীরার সাধারণ প্রশাসনের অধীনে ২০তম গ্রেডের পাঁচটি ক্যাটাগরিতে মোট ১০টি শূন্য পদে সরাসরি জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় বাছাই কমিটি, খুলনার তত্ত্বাবধানে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন জেলা পুলিশের নারী কনস্টেবল/৭০৭ শিল্পী ঢালী। দায়িত্ব পালনকালে তিনি লক্ষ্য করেন, এক নারী পরীক্ষার্থী কোলে তিন মাস বয়সী দুধের শিশু নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন অবস্থায় রয়েছেন। শিশুটিকে দেখাশোনার জন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কোনো অভিভাবক বা স্বজনও ছিলেন না।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে এক মুহূর্ত দেরি না করে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন কনস্টেবল শিল্পী ঢালী। তিনি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন এবং তাকে নিশ্চিন্তে পরীক্ষার হলে যাওয়ার জন্য আশ্বস্ত করেন।
পুলিশ সদস্যের এমন আন্তরিকতায় স্বস্তি ফিরে আসে ওই মায়ের মনে। নিজের নাড়িছেঁড়া ধনকে শিল্পী ঢালীর কোলে তুলে দিয়ে তিনি নিশ্চিন্তে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যটি অত্যন্ত যত্ন ও মমতায় শিশুটিকে আগলে রাখেন।
পরীক্ষা শেষে ওই নারী পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে কনস্টেবল শিল্পী ঢালীর কাছ থেকে তার শিশুকে বুঝে নেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ পুলিশ ও মানবিক পুলিশ সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শিশুটির মা বলেন, পরীক্ষার সময় সন্তানকে কোথায় রাখবেন—এ নিয়ে তিনি খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এমন মুহূর্তে পুলিশ সদস্য শিল্পী ঢালী যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তার কাছে অত্যন্ত মানবিক ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি বাংলাদেশ পুলিশের এমন মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং এ ঘটনা মানুষের সামনে তুলে ধরতে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কনস্টেবল শিল্পী ঢালীর এমন মানবিক আচরণ আবারও প্রমাণ করল—পুলিশ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ নয়; মানবিক সেবাও তাদের দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।