
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের গতিবিধি শনাক্ত করে ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ডিভাইসগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে সামরিক কর্মকর্তাদের মোবাইলফোন ও কম্পিউটারে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বা মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি (এমএআইডি) নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি মার্কিন সিনেটর রন ওয়াইডেনের কাছে পাঠানো পেন্টাগনের এক চিঠিতে উঠে এসেছে, যা গত শুক্রবার প্রকাশ করা হয়।
বিভিন্ন সামরিক শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাদের ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, দুই মাস আগেই তারা তাদের কম্পিউটার ও মোবাইলফোন থেকে এসব ট্র্যাকার সরিয়ে ফেলেছে। একইভাবে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড তাদের উইন্ডোজচালিত ডিভাইসগুলো থেকে শনাক্তকারী ব্যবস্থাগুলো নিষ্ক্রিয় করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই তাদের মোবাইল ডিভাইসে এই বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে।
ওরেগন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রন ওয়াইডেন এবং নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি প্যাট হ্যারিগান এ বিষয়ে পেন্টাগনের কাছে জবাবদিহি চেয়েছেন এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সামরিক বাহিনীর নেওয়া বর্তমান পদক্ষেপগুলো যে এই হুমকি মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়, তা এখন স্পষ্ট। হ্যারিগান মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের অর্থ দিয়ে এমন তথ্য কেনার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়, যা মার্কিন সেনাদের অবস্থান ও গতিবিধি ট্র্যাক করতে সহায়তা করে।
ডেটা ব্রোকাররা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করে থাকে। এই ডেটা ব্যবহার করে সেনারা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন—এমন উদ্বেগের মধ্যেই এই তথ্য সামনে এল। গত জুলাই মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইন্টারনেটে সেনাদের পোস্ট করা ভিডিও এবং লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে ইরান মার্কিন ঘাঁটিগুলো শনাক্ত করছে। এর প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন সেনাদের মোবাইলফোন জমা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ডিক্রিপ্টঅ্যাডসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক এডওয়ার্ডস এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, এর ফলে কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি হওয়া ডেটা থেকে সামরিক সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ডিভাইসের কারিগরি তথ্যের সঙ্গে নেটওয়ার্ক ডেটা মিলিয়ে সেনাদের গতিবিধি ট্র্যাক করার জটিল উপায় এখনো রয়ে গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন নেতৃত্বের প্রত্যাশা ছিল, ইরানের ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ তেহরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনবে। কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রভাব ও ঝুঁকি সামাল দিতে মার্কিন বাহিনীকে নতুন করে কৌশল সাজাতে হচ্ছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, আইনপ্রণেতাদের পাঠানো চিঠির জবাব তারা সরাসরি তাদের কাছেই প্রদান করবে। তবে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সামরিক সদস্যদের গোপনীয়তা রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের কঠোর বিধিনিষেধের প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অ্যাড আইডি বন্ধ হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এগুলো ব্যবহার করে মোবাইলফোনের বিভিন্ন অ্যাপে ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ অনুসরণ করা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুদ্ধের ছয় মাস পরও বদলায়নি পরিস্থিতি।