
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি প্রদর্শন ও সরাসরি হামলা বন্ধ করে, তবেই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংকে (আইআরআইবি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের বর্তমান নীতি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভরশীল। ওয়াশিংটন যদি তাদের আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে সরে আসে, তবেই এই জলপথ স্বাভাবিক থাকবে।
মোহসেন রেজাই দাবি করেছেন, ইরানি বাহিনী জর্ডানের টাইটান ঘাঁটি এবং ইরবিলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক স্থাপনা শনাক্ত করেছিল। তার ভাষ্যমতে, এসব স্থাপনা ইরানের পূর্ণ নজরদারির আওতায় থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে সেগুলোতে হামলা চালানো হয়নি। রেজাইয়ের দাবি, ইরানের এই সামরিক কৌশলের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের বর্তমান অবস্থান ও সংঘাত মোকাবিলার পদ্ধতি নতুন করে মূল্যায়ন করতে হয়েছে। তবে রেজাইয়ের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সাক্ষাৎকারে রেজাই লেবাননের চলমান পরিস্থিতি এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন। ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংঘাতের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো যুদ্ধকে কেবল জয়-পরাজয়ের সংকীর্ণ হিসাব দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। তার দাবি, ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক ও তীব্র সামরিক চাপের মুখেও হিজবুল্লাহ পুরো সংঘাতজুড়ে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় কয়েক সপ্তাহ তুলনামূলক শান্ত পরিবেশের পর পুনরায় শুরু হওয়া হামলা ও পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে রেজাইয়ের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি বন্ধের দাবি, অন্যদিকে নতুন সামুদ্রিক এলাকা তৈরির পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে ইরান তাদের আঞ্চলিক প্রভাব ও কৌশলগত অবস্থান আরও সংহত করার বার্তা দিচ্ছে।