গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ২নং নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নূর আলমের (৫৪) ওপর ফিল্মি স্টাইলে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী। চলন্ত মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাকে পাকা রাস্তায় আছড়ে ফেলে রক্তাক্ত জখম করা হয়, মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেল থেকে ব্যবসার নগদ ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পরে তাকে একটি দোকানে আটকে রেখে জিম্মি করার অভিযোগ করা হয়।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর সহায়তায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলার প্রতাপ মৌজাস্থ হলি চাইল্ড শিশু স্কুল সংলগ্ন পাকা রাস্তায় প্রকাশ্যে এই তাণ্ডব চালানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাবেক চেয়ারম্যান বাদী হয়ে মো. আলম মিয়া (৪২), মো. কামাল হোসেন (৩৫), মো. শাহাদৎ হোসেন (৩২)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩–৪ জনের বিরুদ্ধে সাদুল্লাপুর থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে নূর আলমের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ পুষে রেখেছিল অভিযুক্তরা। রোববার বিকেলে তিনি সাদুল্লাপুর সদর থেকে নিজস্ব ডিসকভার মোটরসাইকেলযোগে নিজ গ্রাম পশ্চিম খামার দশলিয়ায় ফিরছিলেন। প্রতাপ মৌজার হলি চাইল্ড স্কুলের সামনে পৌঁছামাত্র আগে থেকেই ওৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাঁর পথরোধ করে অহেতুক ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মোটরসাইকেলসহ ধাক্কা দিয়ে তাকে পিচঢালা রাস্তায় ফেলে দেয়। এতে মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেল ভেঙে যায় এবং নূর আলমের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ছিলে-ফুলা ও রক্তাক্ত জখম হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, রাস্তায় আছড়ে ফেলার পর সন্ত্রাসীরা তাকে টেনেহিঁচড়ে জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর জখম করে। হামলার একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত আলম মিয়া মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেলে থাকা নূর আলমের ব্যবসার ৫ লাখ টাকাসহ ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে নিজের দোকানে ঢুকে পড়ে। নূর আলম চিৎকার শুরু করলে অন্য সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে ওই দোকানের ভেতর নিয়ে আটকে রাখে।
পরে নূর আলমের পরিবারের সদস্যরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে অবরুদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা তাৎক্ষণিক জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চান। সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অবরুদ্ধ সাবেক চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে পাঠায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর রাতেই থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
প্রকাশ্য সড়কে একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির ওপর এ ধরনের পৈশাচিক হামলা, চাঁদাবাজি এবং নগদ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।