
জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে গত জুলাই মাসে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ও পরে ইরান চীনা উৎস থেকে পাওয়া উচ্চমানের উপগ্রহচিত্র ব্যবহার করেছিল বলে জানা গেছে। এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল আজরাক এলাকায় অবস্থিত মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘাঁটিটি মূলত এফ-৩৫, এফ-১৬ এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
গত ১৭ জুলাই মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে চালানো ওই হামলায় প্রথমে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীতে চারজন আহত হওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজ থাকা আরও এক সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। সব মিলিয়ে ওই হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনজনে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানকে এই উপগ্রহচিত্র সরবরাহকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া এই কর্মকাণ্ডে চীন সরকার সরাসরি জড়িত ছিল এমন কোনো অভিযোগও তোলা হয়নি। চীনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চাওয়া হয়েছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে চীনা প্রযুক্তি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এর আগে গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহে সহায়তা করার অভিযোগে চীন ও হংকংভিত্তিক বেশ কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় লক্ষ্য নির্ধারণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই উপগ্রহচিত্র ব্যবহারের বিষয়টি মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের আবহে মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি বারবার ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, কারণ সেখানে মার্কিন যুদ্ধবিমানসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ মোতায়েন রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, আল জাজিরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মে মাসের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় উপগ্রহচিত্র সরবরাহের এই নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় না।