
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ‘বিয়ে ও অভিবাসন জালিয়াতি’র অভিযোগ পুনরায় আলোচনায় উঠে এসেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইলহান ওমর নিজের ভাইকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ফেডারেল তদন্ত চলমান রয়েছে। ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন বিষয়ক এক সম্মেলনে রক্ষণশীল পডকাস্টার বেনি জনসনের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এমনটি জানান। মুলিন স্পষ্টভাবে বলেন, ওমরের অভিবাসন ইতিহাস এবং তাঁর পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে আসার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুলিন সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই গুরুতর অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়, তবে ইলহান ওমরের অভিবাসন ও নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমনকি বিষয়টি তাকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারের পর্যায়েও নিয়ে যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জোর দিয়েছেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি। তিনি বলেন, বিষয়টিকে কেবল প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। এদিকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মুখপাত্র। তাদের নীতি অনুযায়ী, কোনো চলমান তদন্তের পদ্ধতি বা ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে তারা গণমাধ্যমে কথা বলতে পারেন না। তবে মুখপাত্রের দাবি, কংগ্রেস সদস্যসহ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।
সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ইলহান ওমর ২০০০ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেছিলেন। বিতর্কটি মূলত ২০০৯ সালে ব্রিটিশ নাগরিক আহমেদ নুর সাঈদ এলমির সাথে তাঁর আইনগত বিবাহকে কেন্দ্র করে। ২০১৭ সালে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে। ইলহান ওমর শুরু থেকেই এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তাঁর দপ্তরের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, এসবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও প্রকাশ্যে এই অভিযোগ তুলেছিলেন। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো আদালত বা সরকারি সংস্থার চূড়ান্ত অনুসন্ধানে এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। আপাতত এটি পরিষ্কার যে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধানের বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের ফলাফল কী আসে এবং শেষ পর্যন্ত ওমরকে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় কি না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এলমি আসলে ওমরের ভাই এবং তাঁকে অভিবাসন সুবিধা দিতেই বিয়েটি হয়েছিল— এমন অভিযোগ প্রায় এক দশক ধরে বিভিন্ন মহলে প্রচারিত হয়ে আসছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৬ সালে তিনি এলমিকে তাঁর ভাই হিসেবে উল্লেখ করার অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক ও আপত্তিকর’ বলে অভিহিত করেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পৃথকভাবে তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। চাকরির আরও তথ্য: তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন বা নাগরিকত্বসংক্রান্ত আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে তিনি মিনেসোটা থেকে কংগ্রেসে নির্বাচিত হন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও অতীতের বিয়ে নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরের বছর আহমেদ আবদিসালান হিরসিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন।