
১৩ বছরের অপ্রতীম ছবি তুলতে ভালোবাসত। সপ্তম শ্রেণির এই কিশোরের হাতে প্রায়ই দেখা যেত মুঠোফোনের ক্যামেরা—ছবির ফ্রেমে ধরে রাখতে চাইত চেনা পৃথিবীটাকে। শুক্রবার বিকেলেও সেই ভালোবাসার টানেই বাসা থেকে বের হয়েছিল সে। কিন্তু আর ফেরা হয়নি। এক দিন পর শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে মিলল তার নিথর দেহ। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের সন্তান অপ্রতীমের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে পরিবার ছাড়িয়ে সর্বত্র। স্তব্ধ হয়ে পড়েছে শোবিজ অঙ্গন; সামাজিক মাধ্যমে শোক ও ক্ষোভ জানাচ্ছেন তারকারা।
অভিনেতা সিয়াম আহমেদ তার ফেসবুক বার্তায় লিখেছেন, ‘অপ্রতীমের ছবিটার দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারছি না। বাবা হওয়ার পর থেকে কোনো শিশুর এমন খবর দেখলে নিজের সন্তানের মুখটাই বারবার চোখের সামনে আসে। একটা সন্তান বিকেলে বাসা থেকে বের হয়েছিল ছবি তুলবে বলে, কিন্তু আর বাসায় ফিরল না। একজন বাবা-মায়ের জন্য এর চেয়ে ভয়ংকর কোনো সংবাদ হতে পারে কিনা আমি জানি না। ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্যটা সামনে আসুক এবং সর্বোচ্চ সততার সাথে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
অভিনেত্রী পূজা চেরী লিখেছেন, ‘এই ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্যটা সামনে আসুক এবং যারা দায়ী, তারা যেন আইনের আওতায় আসে—এটাই প্রত্যাশা।’ অভিনেত্রী শোক প্রকাশ করে জানান, একটি শিশুর এমন অকাল প্রয়াণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘যে দেশে প্রত্যক্ষ প্রমাণ থাকার পরও বিচার হয় না, সে দেশ জীবনেও নিরাপদ হবে না। এমন পরিস্থিতির কারণেই অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।’
সামগ্রিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের পর শোবিজ অঙ্গনের তারকারা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ এবং শিশুদের জন্য মানবিক পরিবেশ গড়ার তাগিদ দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত বিচারের মাধ্যমেই কেবল এমন অপরাধীদের থামানো সম্ভব। অপ্রতীমের অকাল প্রয়াণ দেশের শিশু নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়, তবুও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় তারা বারবার সরব হচ্ছেন সামাজিক মাধ্যমে। অপ্রতীমের এই চলে যাওয়াকে কেউ মানতে পারছেন না, কারণ একজন সৃজনশীল কিশোরের স্বপ্ন এভাবে অঙ্কুরেই ঝরে যাবে, তা সচেতন মহলকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।