
পোশাকে ফুল, পাতা কিংবা জ্যামিতিক নকশার প্রথাগত ধারা থেকে বেরিয়ে এখন নতুন এক ধারা তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে ফ্যাশনের ক্যানভাসে প্রকৃতি যেন একটু অন্যভাবে হাজির হচ্ছে। পোশাকের গলার কাজ থেকে শুরু করে হাতা কিংবা পুরো কাপড় জুড়ে এখন স্থান করে নিচ্ছে বিড়াল, মাছ, ময়ূর, বাঘ, পাখি কিংবা প্রজাপতির মতো প্রাণীরা। এসব প্রাণীর অবয়ব কখনো সরলরেখায়, কখনো মূর্ত আবার কখনো বিমূর্ত আকারে পোশাকের নকশার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে। প্রতিটি মোটিফের পেছনে থাকে কোনো না কোনো গল্প, যেমনটা ১০ বছর বয়সী জো একবার জানতে চেয়েছিল, প্রজাপতি কি আদৌ মনে রাখতে পারে?
পরিবেশের চারপাশ থেকে নেওয়া অনুপ্রেরণা পোশাকের নকশায় এক বিশেষ মাত্রা যোগ করছে। বাড়ির সামনের গাছ, জানালার পাশে বসে থাকা পাখি বা ভ্রমণে দেখা কোনো দৃশ্যই হয়ে উঠছে ডিজাইনারদের মূল ভাবনা। অর্থাৎ প্রাণীকে শুধু একটি স্থির অবয়ব হিসেবে না দেখে, তার সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্টুডিও নুভিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও ক্রিয়েটিভ হেড ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, তিনি চারপাশের জীবন, লোকশিল্প ও দৈনন্দিন দেখা-শোনা থেকে অনুপ্রেরণা পান। তিনি বাস্তবধর্মী ছবির চেয়ে প্রাণীর নিজস্ব ভঙ্গি বা চরিত্রকে রেখা ও আকারের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
একইভাবে ওয়্যারহাউসের কর্ণধার তাসনিম ফেরদৌস তাঁর নকশায় কাকের ব্যবহার করেছেন, যা তিনি প্রতিদিন বাড়ির সামনের কাঁঠালগাছে দল বেঁধে আসতে দেখেন। এমন সাধারণ পাখি যা অনেকের কাছে গুরুত্বহীন, তাকেই তিনি নকশায় নতুন রূপে তুলে ধরেছেন। অধিকাংশ সময় প্রাণীর মোটিফকে নির্দিষ্ট অর্থ বা প্রতীকের আড়ালে ফেলা হলেও, ডিজাইনারদের কাছে বিষয়টি সব সময় তেমন নয়। ফাতেমা তুজ জোহরার মতে, বাঘ মানেই শক্তি বা সাহসের প্রতীক—এমন অর্থ জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নকশায় বিড়ালের কৌতূহলী বা দুষ্টু স্বভাবও আনন্দের খোরাক হতে পারে। যেমন সুন্দরবন ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় ওয়্যারহাউস বাঘ ও হরিণকে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছে।
ডিজাইনাররা একেক মোটিফ ফুটিয়ে তুলতে ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করেন। কোথাও প্রাণীর পুরো অবয়ব স্পষ্ট, আবার কোথাও কেবল রেখা বা বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। ওয়্যারহাউসের একটি জ্যামিতিক প্রিন্টে কচুরিপানার অবয়ব সরাসরি ব্যবহার না করে তার বিন্যাস ও অনুভূতির বিমূর্ত প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, স্ক্রিন প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট ও এমব্রয়ডারির মতো বিভিন্ন মাধ্যম নিয়ে তাঁরা কাজ করেন। প্রতিটি মাধ্যমের নিজস্ব চরিত্র থাকায় নকশা, কাপড় ও কাঙ্ক্ষিত অনুভূতির ওপর ভিত্তি করেই মাধ্যম নির্বাচন করা হয়।
পশুপাখির মোটিফের এই ধারা শেষ পর্যন্ত প্রকৃতিরই এক গল্প। এই পোশাকগুলো কেবল নিছক ফ্যাশন নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। প্রসঙ্গত, পোশাকের পাশাপাশি বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নতুন নিরীক্ষা চলছে, যেমনটা জয়া আহসান কলার মোচা দিয়ে ‘ক্রিসপি সালাদ’ তৈরির চিন্তা করছেন। আবার টাঙ্গাইলের মতো জায়গাগুলোতেও স্থানীয়ভাবে তৈরি পোশাকের বাজার নীরবে বড় হচ্ছে। পশুপাখির মোটিফগুলো এখন পোশাকে এক ভিন্ন ধারার নান্দনিকতা যোগ করছে, যা ফ্যাশনপ্রিয়দের কাছেও বেশ সমাদৃত হচ্ছে। আজ কারিনা কাপুরের জন্মদিন, ছবিতে তাঁর জীবনের নানা অধ্যায় উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে, প্রাণীর স্বভাব ও সৌন্দর্য পোশাকে নতুন করে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে এই আধুনিক ফ্যাশন ধারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাড়ির বারান্দার সামনে বড় কাঁঠালগাছটায় প্রতিদিন দল বেঁধে কাক আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যে পাখিটিকে সাধারণত মানুষ খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে না, সেটিকেই নকশার মাধ্যমে একটু আলাদা করে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাসনিম ও তাঁর বোন সেখানে গিয়ে যে প্রাণীগুলো দেখেছিলেন, সেগুলো থেকেই নকশায় এসেছে বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পানির ওপর ভেসে থাকা কচুরিপানাকে সরাসরি কাপড়ে আঁকার বদলে সেই দৃশ্যের রেখা, বিন্যাস ও অনুভূতিকে বিমূর্ত করে তৈরি হয়েছে জ্যামিতিক প্যাটার্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি ডিজিটাল প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট এবং কিছু কাজে এমব্রয়ডারিও করছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই ডিজাইনের ধরন, কাপড় এবং আমরা কী ধরনের অনুভূতি তৈরি করতে চাই, তার ওপর নির্ভর করে মাধ্যম বেছে নিই।’।