গাইবান্ধায় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রকৃত কর্মরত ও তরুণ সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা সার্কিট হাউসের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন একদল তরুণ সাংবাদিক।
বিক্ষোভকারী সাংবাদিকদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পেশাগত উন্নয়নে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও গাইবান্ধায় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ বণ্টনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
তাদের দাবি, গাইবান্ধায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হলে একই বা বয়োজ্যেষ্ঠ কিছু সাংবাদিক বারবার অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও নতুন ও তরুণ সাংবাদিকদের অনেকেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে ২০২৪ সালেও তরুণ সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বলে তারা জানান।
এবারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও একই পরিবারের দুজন, শিক্ষকসহ কয়েকজনের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিক্ষোভকারী সাংবাদিকরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা করা অনেক তরুণ সাংবাদিককে বাদ দিয়ে অন্যদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
পরে বিষয়টি গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামানের নজরে এলে তিনি বিক্ষোভকারী তরুণ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তরুণ সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে যারা ইতোমধ্যে একবার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাদের পুনরায় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথাও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর তরুণ সাংবাদিকরা সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন। জেলা প্রশাসককে জেলার অভিভাবক হিসেবে সম্মান জানিয়ে তার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা কর্মসূচি শেষ করেন বলে জানান।
তরুণ সাংবাদিকরা বলেন, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ বণ্টনে স্বচ্ছ নীতিমালা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের অসন্তোষ তৈরি হবে না। ভবিষ্যতে প্রকৃত কর্মরত ও নতুন সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান তারা।
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ বা কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। এসব প্রশিক্ষণে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, সাংবাদিকতার নীতিমালা, আচরণবিধি এবং অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকতে পারে।
এছাড়া প্রশিক্ষণের নিয়ম ও নির্ধারিত বাজেট অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত বা দৈনিক ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। প্রশিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে পেশাগত যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হয়।
তবে গাইবান্ধার তরুণ সাংবাদিকদের অভিযোগ, এসব সুযোগ বণ্টনের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।