
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষের দিকে হলেও, কোন কোন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা এখান থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তারা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মুর্তজা হোসেনের তথ্যমতে, বেবিচক চেয়ারম্যানসহ একটি উচ্চপর্যায়ের দল সম্প্রতি নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে প্রকল্পের কিছু শেষ মুহূর্তের কাজ চলমান থাকলেও বড় ধরনের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নেই। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালের নির্মাণকাজ ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ৯১ দশমিক ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। যদিও মূল কাজ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখন প্রস্তুত।
প্রকল্পের আওতায় রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। সমুদ্রের ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে। বেবিচকের দাবি, নতুন রানওয়েতে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর ও বোয়িং ৭৪৭-৪০০-এর মতো বিশাল উড়োজাহাজও অনায়াসে ওঠানামা করতে পারবে। ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটারের আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালে ৪৫০ জন যাত্রীর জন্য প্রস্থান লাউঞ্জ, বোর্ডিং ব্রিজ, এস্কেলেটর, লিফট, লাগেজ পরিবাহক ও ইমিগ্রেশন সুবিধাসহ আধুনিক সব ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
টার্মিনালের পাশেই ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের অ্যাপ্রোনে দুটি বড় উড়োজাহাজ ও তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি ট্যাক্সিওয়ে চালু হলেও গাড়ির পার্কিংয়ের কাজ এখনো চলছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২৮ থেকে ৩০টি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ এই বিমানবন্দর ব্যবহার করছে।
তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করার আগে সম্ভাব্য বিমান সংস্থাগুলোর চাহিদা ও আগ্রহ যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি বিমান সংস্থা কক্সবাজার থেকে ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ দেখায়নি, যদিও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এক্ষেত্রে সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল উন্নত অবকাঠামো থাকলেই আন্তর্জাতিক যাত্রী পাওয়া সম্ভব নয়। কক্সবাজারের পর্যটন সেবার উন্নয়ন, প্রচার ও বিপণন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন সমান জরুরি। এদিকে, কক্সবাজারকে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেবিচক এরই মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের পরামর্শক ও নকশা প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালেও বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, শুধু বিমানবন্দর নির্মাণ করলেই আন্তর্জাতিক যাত্রী পাওয়া যাবে না।