
রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে প্রসূতি মা, শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে আসা এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হামলার সময় অফিসের প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং বিপুল পরিমাণ টিকাদান সামগ্রী লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে। জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা নাহিদ শনিবার এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এক ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, ৫০ বছর ধরে প্রসূতি মা ও শিশুদের সেবা এবং টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা রাড্ডা এমসিএইচএফপি সেন্টার মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়ার। হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি। এ ঘটনার সরেজমিন খোঁজ খবর নিতে রোববার সকালে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল মিরপুরে ঘটনাস্থলে যাবে।
এই ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, রাজধানীর বুকে এমন একটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে দখলের ঘটনা প্রমাণ করে যে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সরকারের কার্যকারিতা ও অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, দিনের পর দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ অবনতি ঘটলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা গোটা জাতির জন্য লজ্জাজনক। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই চলতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ তুলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, এই ভাঙচুর ও দখলদারির পেছনে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং মহানগর উত্তর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যখন ভাঙচুর ও লুটপাট চলছিল, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ছিল নীরব ও নির্বিকার, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নাহিদ ইসলাম অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কঠোর বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে শনিবার মধ্যরাতে এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, তারা খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলন করবেন। একই সঙ্গে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।