
আমাদের চারপাশের সবকিছু নিয়ে গড়ে উঠেছে পরিবেশ। তবে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের পরিবেশ ক্রমশ দূষিত হয়ে উঠছে, যা বিশ্ববাসীর জন্য চরম দুশ্চিন্তার কারণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। এই পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য মূলত মানুষের দায়বদ্ধতার অভাবই প্রধানত দায়ী। আমাদের আধুনিক জীবনধারা ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার চাপে পরিবেশ প্রতিদিন নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, পানিদূষণ ও মাটিদূষণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সূচনা: আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে, তা নিয়েই আমাদের পরিবেশ। ধারণা করা হচ্ছে, এই ভয়াবহতায় বেশি ক্ষতির শিকারে পরিণত হবে বাংলাদেশ। আধুনিক জীবনযাত্রার দিকে আমরা যত এগোচ্ছি, ততই আমরা পরিবেশদূষণের ক্ষেত্র তৈরি করছি। তবে বর্ধিত জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে গিয়েও দূষণ ঘটছে। মনে রাখা দরকার, পানি জীবন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার অন্যতম উপাদান। মনে রাখা দরকার, মাটিই কিন্তু আমাদের জীবনধারণের উপকরণ জোগান দেয়।
শব্দদূষণ বর্তমানে এক বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন, মাইকের উচ্চশব্দ, রেডিও-টেলিভিশন ও কলকারখানার যন্ত্রপাতির অসহনীয় শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তির ক্ষতি করার পাশাপাশি মাথাব্যথা, বমি ভাব এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। অন্যদিকে, বায়ুদূষণ আমাদের জীবনধারণকে কঠিন করে তুলছে। শিল্পকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া, যানবাহনের কার্বন নিঃসরণ, ইটের ভাটার কালো ধোঁয়া এবং নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের ফলে বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেনসহ ক্ষতিকারক গ্যাস মিশে যাচ্ছে। পানিদূষণের চিত্রটিও বেশ উদ্বেগজনক; কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, চিকিৎসাসামগ্রীর অবশিষ্টাংশ, কৃষিকাজে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং পেট্রোলিয়াম পদার্থের মিশ্রণ পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। পাশাপাশি পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় আর্সেনিক দূষণের আশঙ্কাও বাড়ছে। এছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ণ, প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য এবং শিল্প-আবর্জনার কারণে মাটি তার উর্বরতা ও স্বাভাবিক গুণাগুণ হারাচ্ছে, যা সরাসরি আমাদের খাদ্য উৎপাদন ও জীবনচক্রকে প্রভাবিত করছে। অসহনীয় মাত্রার শব্দদূষণে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, এমনকি উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রচনাটি প্রস্তুত করেছেন মো. সুজাউদ দৌলা, সহকারী অধ্যাপক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা।