
ইসরায়েলের কাফর কারা এলাকায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) একটি ছোট প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিমানটি মহাসড়ক-৬৫-এর পাশে আছড়ে পড়ে এবং সাথে সাথে এতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনায় বিমানের অন্য এক আরোহী গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই ইসরায়েলি ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন। বিমানটির আগুন যাতে সংলগ্ন ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত তৎপরতা চালান। শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাফর কারা এলাকাটি মহাসড়ক-৬৫-এর পাশে অবস্থিত। বিমানটিতে লাগা আগুন আশপাশের ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। বিমান বিধ্বস্তের কারণে ওই এলাকায় নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আগুনে পোড়ার চিহ্ন পাওয়া যায়।
দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসরায়েলি পুলিশ মহাসড়ক-৬৫-এর সংশ্লিষ্ট অংশটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। উদ্ধারকাজ ও ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুবিধার্থে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। উদ্ধারকারী দল বিধ্বস্ত বিমানের ভেতর থেকে ৩৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে এবং দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। তবে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও বিমানের ভেতর থেকে অপর এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিমানে থাকা অপর ব্যক্তি দুর্ঘটনার পর ভেতরে আটকা পড়েন।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বিমানটি কোনো বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট ছিল না, বরং এটি ছিল একটি প্রশিক্ষণমূলক উড্ডয়ন। দুর্ঘটনার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি, উড্ডয়ন সংক্রান্ত জটিলতা নাকি অন্য কোনো কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারালো, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে দুর্ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচলে সীমাবদ্ধতা বজায় থাকবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।