
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীদের পে-ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণের কাজ আগামী ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই কার্যক্রমটি ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++) পোর্টালে সম্পন্ন করতে হবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে সবার বকেয়ার পরিমাণ সমান হবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়ে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রথমে চাকরিজীবী আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশ করে পরিচয় ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য দেবেন।
নতুন পে স্কেলের সুবিধা পেতে হলে পে-ফিক্সেশন সঠিকভাবে সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। প্রক্রিয়াটি নির্ভুল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, অক্টোবর মাস থেকেই নতুন স্কেলে বেতন শুরু হবে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য ও অফিস আদেশ যাচাই করে পে-ফিক্সেশন শেষ করা প্রয়োজন। কোনো অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যের কারণে বেতন প্রাপ্তিতে বিলম্ব হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
পে-ফিক্সেশন মডিউলে চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, বর্তমান গ্রেড, পদে যোগদানের তারিখ, বর্তমান মূল বেতন এবং পূর্ববর্তী পে-ফিক্সেশনের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেডের স্বপক্ষে নথিপত্র প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক। পোর্টালে তথ্য দেওয়ার সময় পুরোনো দাপ্তরিক রেকর্ডের সঙ্গে নাম, এনআইডি এবং জন্মতারিখের মিল থাকা আবশ্যক। এরপর হিসাবরক্ষণ কার্যালয় এগুলো যাচাই-বাছাই করবে এবং কোনো অসংগতি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে।
বকেয়া বেতন প্রাপ্তির বিষয়টি চাকরিজীবীর ব্যক্তিগত গ্রেড এবং নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতনের ওপর নির্ভর করবে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। নতুন এই কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর এই স্কেলটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরপর আগের বেতন ও চাকরির ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন কাঠামোয় প্রযোজ্য গ্রেড ও ধাপ নির্ধারণ করা হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই হার যথাক্রমে ৭০ ও ৭৫ শতাংশে উন্নীত হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ পূর্ণাঙ্গ বা শতভাগ মূল বেতন কার্যকর হবে। তবে নতুন ভাতার হার ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং ততক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যমান হারে ভাতা প্রদান অব্যাহত থাকবে। এরপর সেই হিসাব অনুযায়ী বেতন বিল ও বকেয়া পাওনার হিসাব তৈরি করা হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এ হার যথাক্রমে ৭০ ও ৭৫ শতাংশ হবে।