
বাংলাদেশে শিক্ষকতায় যোগ দেওয়ার পূর্বে কোনো ধরনের পেশাগত প্রশিক্ষণের বাধ্যবাধকতা নেই। মূলত চাকরিতে ঢোকার পরেই শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে মাধ্যমিক, মাদরাসা ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের এক বিশাল সংখ্যক শিক্ষক প্রয়োজনীয় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে চলেছেন। সরকারি বেতন-ভাতা বা এমপিওভুক্তির আওতাভুক্ত প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষক এখনো কোনো ধরনের মৌলিক প্রশিক্ষণ পাননি বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশ্বের অনেক দেশেই শিক্ষকতায় প্রবেশের আগে প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও আমাদের দেশে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় শিক্ষণদক্ষতায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক ছিলেন ৩ লাখ ৪ হাজার ৬৪৬ জন। তাদের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক মাত্র ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৪০ দশমিক ৫২ শতাংশ বা প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক এখনো প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন। মাধ্যমিক পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষকদের ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষকদের ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাদরাসা শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার kes ৬০৫ জন বা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন। তাদের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ শিক্ষক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৫১ জন। তাদের প্রায় ২০ শতাংশের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। শিক্ষকদের এই ঘাটতি মেটাতে ও তাদের দক্ষ করে তুলতে ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জনকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যদিও এটি কোনো ফাউন্ডেশন কোর্স নয়।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে প্রার্থীরা নিজেরাই পেশাগত প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হবেন। পাশাপাশি যেসব শিক্ষক এখনো প্রশিক্ষণ পাননি, তাদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার সাথে সাথে প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেটিও সরকারকে নজরদারিতে রাখতে হবে। উল্লেখ্য, সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের দিবসটি ১৯৬৬ সালের আইএলও-ইউনেস্কো শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত সুপারিশমালার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।