
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগরে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবীরকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার রেজিনগরে দলটির প্রধান কার্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁর তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাঁর জামা ধরে টেনেহিঁচড়ে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন এই রাজনীতিবিদ।
ভোট দেওয়ার আগে থেকেই হুমায়ুন কবীর অভিযোগ তুলেছিলেন যে, তাঁর বাড়ি এবং ভোটকেন্দ্রের চারপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গিয়ে ভোট দেওয়ার পরও তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভোটারদের মনে ভয়ভীতি ছড়াতে পুলিশ বাহিনীকে অন্যায্যভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বক্তব্যের জেরে পুলিশ রেজিনগরের এজেইউপি কার্যালয়ে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও ‘দালালি’ করার প্রকাশ্য অভিযোগ তোলেন তিনি, যা পরে ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা—উভয় আসনেই বিজয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নওদা আসনটি নিজের কাছে রাখায় রেজিনগর আসনটি শূন্য হয়ে যায়। শূন্য হওয়া এই আসনের উপনির্বাচনে এবার এজেইউপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ।
রেজিনগর আসনের এই উপনির্বাচনে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির সাখারাভ সরকার, তৃণমূল কংগ্রেসের রাবিউল আলম চৌধুরী ও সফিউজ্জামান শেখ, কংগ্রেসের মোহাম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি এবং সিপিএমের সৈয়দ আসাদ আলী। একই দিনে পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনেও উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে।