
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তির বিষয়টি নতুন কিছু নয়। গত কয়েক মাস ধরে লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, ট্রলি সংকট, ইমিগ্রেশনে হয়রানি এবং সামগ্রিক সেবার মান নিয়ে যাত্রীদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের অভিযোগের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিমানবন্দরে আগমনী যাত্রীর চাপ বেড়ে গেলে ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়। ফলে বিমানবন্দরের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রলি সংকটের বাস্তব চিত্র সম্প্রতি বিভিন্ন ভিডিওর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে এসেছে। যদিও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, সেখানে প্রায় চার হাজার ট্রলি রয়েছে, তবুও একই সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করলে ট্রলির টান পড়ে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েক মাস আগে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে অতিরিক্ত ট্রলি আনা হয়েছিল। এরপরেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। যাচাই করে এসব ভিডিওর কয়েকটির সত্যতা পাওয়া গেছে। সীমিত সক্ষমতার মধ্যে বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে সেবা দিতে গিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।
গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বেল্ট এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়েন জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। পরে তাকে সরকারি কাজে বাধা প্রদান, কর্মকর্তাদের হুমকি এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
যাত্রীরা তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানাচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরা এক গণমাধ্যমকর্মীর লাগেজ পেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে, এছাড়া তার একটি লাগেজ ভাঙা ও অন্যটি খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান সৌদি আরব থেকে আসা আরেক যাত্রী, যিনি ৪৫ মিনিট লাগেজ পাওয়ার অপেক্ষায় থেকে ট্রলি না পাওয়ায় আরও অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসঙ্গে বড় কয়েকটি ফ্লাইট অবতরণ করলে বিমানবন্দরের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রকট হয়ে ওঠে।
এদিকে অব্যবস্থাপনার অভিযোগে মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরনো ভিডিও ছড়িয়ে বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি দায়িত্ব পালনে অবহেলার ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তবে বিমানবন্দরের বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে ছোটখাটো বিষয়ে যাত্রীদের হয়রানি করার যে অভিযোগ রয়েছে, তা নিরসনে সরঞ্জাম বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।