
দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথে গত দুই বছরে বেশ কিছু রুটে যাত্রী সংখ্যায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে বরিশাল, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাত্রী চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এই মন্দার প্রধান কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন এবং আকাশপথের তুলনায় সড়কপথে ভ্রমণ খরচ কম থাকাকে চিহ্নিত করেছেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বমোট ১ কোটি ৫৮ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যার সিংহভাগই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন। তবে অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে এই চিত্র ভিন্ন।
যাত্রী হ্রাসের তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে যশোর বিমানবন্দর। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এখান দিয়ে ২ লাখ ২১ হাজার যাত্রী যাতায়াত করলেও দুই বছরের ব্যবধানে তা ৯২ হাজার ২০০-তে নেমে এসেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত যশোর বিমানবন্দরে মাত্র ৪৪ হাজার যাত্রী সেবা নিয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। একইভাবে বরিশাল বিমানবন্দরে ২০২৩ অর্থবছরে ৫৮ হাজার যাত্রী চলাচল করলেও এখন তা অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সেখানে মাত্র ৮ হাজার ৭০০ জন যাত্রী বিমান ব্যবহার করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৫ শতাংশ কম।
রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরেও যাত্রী সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। দুই বছর আগে বছরে দেড় লাখের বেশি যাত্রী এই রুট ব্যবহার করলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত যাত্রী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২০০-তে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ সৈয়দপুর বিমানবন্দরেও গত অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত যাত্রী সংখ্যা ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩ লাখের নিচে নেমেছে। এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মেসবাহ-উল ইসলাম জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথ সহজ হওয়ায় অনেক যাত্রী বিমানযাত্রা ছেড়েছেন। এর ফলে যশোর রুটে আসন পূরণের হার যেখানে একসময় প্রায় ১০০ শতাংশ ছিল, তা এখন ১০ শতাংশের ঘরে নেমেছে। বরিশাল রুটটিও বর্তমানে প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে।
তবে সব রুটেই যে যাত্রী কমেছে তা নয়, কক্সবাজারসহ কিছু রুটে চাহিদা বাড়ায় এয়ারলাইনগুলো ফ্লাইট পরিচালনা বাড়াচ্ছে। যাত্রী কমে যাওয়ায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সৈয়দপুরে ফ্লাইট সংখ্যা কমালেও রাজশাহী রুটে আবার সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট চালু করেছে। অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন খাতের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টরা সড়কপথের সাথে টিকে থাকতে নতুন ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন।