
ম্যানচেস্টার সিটির ওপর আসা সাম্প্রতিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ও ক্লাবের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে সমর্থকদের মাঝে। এই সংকটের মুহূর্তে নরওয়েজিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ড সমর্থকদের প্রতি এক জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ক্লাবের এই কঠিন সময় পার করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ম্যানচেস্টার সিটির জন্য এমনিতেই সময়টা বেশ অনিশ্চয়তায় ভরা।
স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হালান্ড বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সমর্থকদের একে অপরের পাশে থেকে ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, সিটির প্রতি তার গভীর টান রয়েছে এবং সমর্থকদের আবেগের জায়গাটিও তিনি অনুধাবন করতে পারেন। ফুটবল ম্যাচ জেতার দিকে মনোনিবেশ করে এই যাত্রাটা উপভোগ করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। হালান্ডের ভাষায়, আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে, একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং হাসিমুখে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। সিটিজেনদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের আবেগের কথা জানিয়ে হালান্ড আরও বলেন, ‘সিটিকে নিয়ে আমি সত্যিই অনেক ভাবি। এর মধ্যে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা তদন্তের সময় সৎ ও যথাযথভাবে সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে। জীবনে যা-ই ঘটুক না কেন, আমাদের মুখে সবসময় হাসি রাখতে হবে। আর সমর্থকদের নিয়েও আমার অনেক ভাবনা আছে, কারণ আমিও নিজেকে একজন সমর্থক মনে করি। তাই তাদের অনুভূতিটাও আমি বুঝতে পারি।’।
ম্যানচেস্টার সিটি যখন নিজেদের সুনাম রক্ষার আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই হালান্ডের এই বক্তব্য সমর্থকদের জন্য কিছুটা আশার আলো হয়ে এসেছে। তবে মাঠের বাইরের পরিস্থিতি বেশ জটিল। স্বাধীন কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে ক্লাবটির বিরুদ্ধে ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে ‘ভুয়া’ চুক্তির মাধ্যমে একটি ‘গোপন অর্থায়ন ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। হলান্ডের আশাবাদী বক্তব্যের সঙ্গে স্বাধীন কমিশনের তদন্তে উঠে আসা গুরুতর তথ্যের যেন আকাশ-পাতাল পার্থক্য।
কমিশনের তথ্যমতে, এ ধরনের কৌশলের মাধ্যমে প্রায় ৮৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত রাজস্ব দেখানো হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফার নির্ধারিত ব্যয়ের সীমা লঙ্ঘন করা। তদন্তে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১০০টিরও বেশি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়াও দীর্ঘদিনের তদন্ত প্রক্রিয়ায় ক্লাবের পক্ষ থেকে যথাযথ সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়টিও কমিশন তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে।