ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বাড়াতে গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশনসহ আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্টেশন মাস্টারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে জেলা প্রশাসন, গাইবান্ধা পৌরসভা ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। এসব বার্তায় স্টেশন, বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকায় কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রচারিত বার্তায় বলা হয়, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। সাধারণত দিনের বেলায় এ মশা কামড়ায় এবং জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ফুলের টব, ফ্রিজের পানি জমার ট্রে, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
বার্তায় আরও বলা হয়, ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ জ্বর। এ ছাড়া মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং শরীরে লালচে দানা দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া জ্বর কমে যাওয়ার পরও ডেঙ্গু রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন, গাইবান্ধা পৌরসভা ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্যক্তিগত সচেতনতা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।